ইন্টারনেট এবং টেলিফোন পরিষেবা বন্ধ করেও বিক্ষোভের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না ইরানের (Iran Protest) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের প্রশাসন। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এই মুহূর্তে ইরানের সবকটি, অর্থাৎ ৩১টি প্রদেশেই সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে জাতীয় ঐক্যের ডাক দেন খামেনেই। একই সঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের বিষয়ে ‘নাক না গলানোর’ পরামর্শ দেন তিনি (Iran Protest)।
সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী (Iran Protest)। সেনা ও পুলিশের গুলিতে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ইরানে কর্মরত নরওয়ের একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে বেশির ভাগই ১৮ বছরের কম বয়সি। যদিও অন্য কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের মতে, মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৬৫ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় ২৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে (Iran Protest)।
এই পরিস্থিতিতে ইরান সরকার রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের অভিযোগ, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে এবং বিক্ষোভে উস্কানি দিচ্ছে। শুধু ইজরায়েল নয়, আমেরিকার বিরুদ্ধেও সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন খামেনেই। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে হিংসাত্মক ও নাশকতামূলক করে তোলার পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের হাত রয়েছে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি, যিনি প্রাক্তন শাসক রেজা শাহ পাহলভির পুত্র, দেশবাসীকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার পরেই ইরানজুড়ে ইন্টারনেট ও ফোন পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়। নেটব্লকসের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ডিজিটাল সেন্সরশিপের পরেও বিক্ষোভ কমেনি, বরং ইরানজুড়ে প্রতিবাদের তীব্রতা আরও বেড়েছে।













