ফের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এসআইআর সংক্রান্ত পরিস্থিতিতে এই নিয়ে পঞ্চমবার কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানালেন তিনি। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে বারবার হয়রানি করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে একাধিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি (Mamata Banerjee)।
এর আগে গত শনিবার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে চতুর্থ চিঠি পাঠিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। সেই তিন পাতার চিঠিতে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অমর্ত্য সেন, জয় গোস্বামী, মহম্মদ শামি কিংবা অভিনেতা দেবকে কেন শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেই প্রশ্ন করেছিলেন মমতা। পাশাপাশি এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ৭৭ জনের মৃত্যুর দায় কার, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তিনি।
এবারের চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোটাররা তাঁদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিলেও বহু ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না। চিঠিতে মমতা লিখেছেন, ভোটাররা নথি জমা দেওয়ার পরেও অনেক জায়গায় কোনও স্বীকৃতি বা রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। পরে সেই নথিগুলিকে ‘নট ফাউন্ড’ বলা হচ্ছে বা জানানো হচ্ছে যে রেকর্ডে নথি নেই। এর জেরেই ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

মমতার বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং ভোটাধিকার থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাই অবিলম্বে সাধারণ মানুষের হয়রানি বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের পার্থক্য ১৮ বা ১৯ বছর হলেই কেন শুনানির নোটিস দিয়ে মানুষকে ডাকা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে লেখা শেষ চিঠিতে মমতা জানিয়েছেন, যেসব ভোটার ইতিমধ্যেই ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে ম্যাপ করা হয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা করে শুনানির নোটিস পাঠানোর কোনও প্রয়োজন নেই।
এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন চিঠি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।












