আইপ্যাক-কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) জোড়া পিটিশন দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। প্রথম মামলাটি দায়ের করেছে ইডি নিজেই। দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। এই দুই মামলাতেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।
আদালত (Supreme Court) সূত্রে জানা গিয়েছে, ইডির পিটিশনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ‘অযাচিত প্রবেশ’ এবং সেখান থেকে ফাইল ও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘চুরি’ ও ‘ডাকাতি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইডির অভিযোগ, তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনা তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশেই ঘটেছে।
এই পিটিশনে শুধু (Supreme Court) আইপ্যাক-কাণ্ড নয়, অতীতের আরও তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছে ইডি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এর আগেও একাধিকবার কেন্দ্রীয় তদন্তে বাধা দিতে মুখ্যমন্ত্রী একই ভাবে সামনে এসে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সেই যুক্তিকে জোরদার করতেই এই তিনটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সারদা মামলায় তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই হানার প্রতিবাদে ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কয়লা পাচার মামলায় সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিবিআই তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার আগেই সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর পৌঁছে যাওয়ার ঘটনাও পিটিশনে রয়েছে। একই বছরের ১৭ মে নারদা মামলায় ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে সিবিআই নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার ঘটনাও তুলে ধরা হয়েছে।
ইডির অভিযোগ, শুধু এই ঘটনাগুলিই নয়, কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক শুনানি ভেস্তে দেওয়ার পিছনেও তৃণমূলের ভূমিকা রয়েছে। শাসকদলের কর্মী-সমর্থকদের হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জমায়েত করার অভিযোগও পিটিশনে তোলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা পিটিশনে ইডি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন জানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যে বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে গিয়েছেন, সেখান থেকে কোনও তথ্য যাতে মুছে ফেলা বা ক্লোন করা না হয়, সেই নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। কয়লা পাচার মামলার তদন্তে যুক্ত কোনও কেন্দ্রীয় আধিকারিকের বিরুদ্ধে কলকাতা বা বাংলার কোনও থানায় যেন এফআইআর গ্রহণ না করা হয়, সেই আবেদনও জানানো হয়েছে। শেক্সপিয়র সরণী থানায় দায়ের করা এফআইআরে স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। সব শেষে আইপ্যাক-কাণ্ডে সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছে ইডি।











