‘মৌসম বদল রাহা হ্যায়’—শনিবার তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই রাজনীতির অন্দরে এই কথাই ঘুরছে (Mausam Noor)। রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম বেনজির নূরের (Mausam Noor) দলবদল ঘিরে একটাই প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত। প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে এই কারণে যে, সম্প্রতি তাঁকে মালদহের তিনটি বিধানসভার দায়িত্ব দিয়েছিলেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সাধারণত দল ছাড়ার সময় নেতানেত্রীরা বলেন, পুরনো দলে কাজ করতে না পারার কারণেই তাঁরা নতুন দলে যাচ্ছেন। কিন্তু মৌসমের বক্তব্য ঠিক উল্টো। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, তৃণমূলে তিনি কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন। জেলা সভাপতি ছিলেন, রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন। তবু তাঁর সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে পরিবার এবং কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা গনি খান চৌধুরীর রাজনৈতিক ঐতিহ্য বজায় রাখার ভাবনা (Mausam Noor)।
শনিবার কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মৌসম বারবার বলেন, পরিবার হিসাবে একসঙ্গে কাজ করতেই এই সিদ্ধান্ত (Mausam Noor)। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তৃণমূল সম্পর্কে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। কাজের ক্ষেত্রেও কোনও বাধা ছিল না। তবে পারিবারিক ঐতিহ্য এবং আবেগ থেকেই তিনি কংগ্রেসে ফিরছেন।
২০০৯ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে পা রাখেন মৌসম নূর। তিনি মালদহের প্রবাদপ্রতিম কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরীর ভাগ্নী। মায়ের মৃত্যুর পর সুজাপুর বিধানসভার উপনির্বাচনে প্রথম ভোটে লড়েন এবং জেতেন। তারপর থেকে আর পিছনে তাকাতে হয়নি তাঁকে। তবে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। প্রায় ছয় থেকে সাত বছর পর আবার পুরনো দলে ফিরলেন মৌসম।
কংগ্রেসে যোগ দিয়ে মৌসম বলেন, প্রায় ছয় বছর পর ঘরে ফিরে ভাল লাগছে। যাঁরা তাঁকে আবার গ্রহণ করেছেন, তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, খুব শীঘ্রই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেবেন। একই সঙ্গে কংগ্রেস নেতৃত্ব, বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধীর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মৌসম জানান, তাঁর মা সারা জীবন কংগ্রেসের হয়ে কাজ করেছেন। বরকত সাহেব এবং গনি খান চৌধুরীর আদর্শ দেখেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তৃণমূলে থেকেও তিনি কাজ করতে পারছিলেন, কিন্তু পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবেই সবাই একসঙ্গে কংগ্রেসে ফিরে কাজ করতে চান। উল্লেখযোগ্য ভাবে, সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিজেপিকেই প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলে উল্লেখ করেন মৌসম নূর।













