দুই দশকেরও বেশি সময় তৃণমূল কংগ্রেস করেছেন তিনি (Sisir Adhikari)। একসময় পূর্ব মেদিনীপুরে রাজ্যের শাসক দলের সমস্ত দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধে। সেই শিশির অধিকারীই এ বার প্রকাশ্যে মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন তৃণমূল করার জন্য। শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরে বিজেপির একটি সভায় আবেগতাড়িত হয়ে তিনি বলেন, তৃণমূল করে তিনি ভুল করেছিলেন (Sisir Adhikari)।
সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে গলার উত্তরীয় খুলে হাত জোড় করে ঝুঁকে পড়ে মঞ্চ ছুঁয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায় ৮৪ বছরের শিশির অধিকারীকে (Sisir Adhikari)। তিনি বলেন, “গলবস্ত্র হয়ে এই মাটি ছুঁয়ে আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমি একটা ভুল পথে চলে গিয়েছিলাম।” তাঁর এই বক্তব্যে সভায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন (Sisir Adhikari)।
শিশির অধিকারী বলেন, তৃণমূলের নানা কেলেঙ্কারি সম্পর্কে তিনি সব জানতেন। কিন্তু সেই দলেই দীর্ঘদিন ছিলেন বলে আজ তাঁর লজ্জা হয়। তিনি বলেন, “আমি ওই কেচ্ছা-কেলেঙ্কারি ঘৃণা করি। আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলাম। সেই ভুলের জন্য আপনাদের সঙ্গে আমিও দায়ী। আপনাদের কিছু দিতে পারিনি। চোখে জল আসে। ছাব্বিশ সালে বিজেপিকে সরকারে আনুন। আমি হয়তো বেশি দিন বাঁচব না, কিন্তু যত দিন বাঁচব, আপনাদের পাশে থাকব।”
ফের ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “আমি ব্রাহ্মণ সন্তান। আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনাদের ভুল পথে চালিত করেছিলাম। আপনারা আমাকে ক্ষমা করুন। ২০২৬ সালে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনুন। অমিত শাহকে আমি ভাল করে চিনি। শপথ করে বলছি, এই এলাকায় এমন উন্নয়ন হবে, যা আপনারা আগে কখনও দেখেননি।”
২০০০ সালে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন শিশির অধিকারী। পরে তিনি পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন। তবে তাঁর মেজ ছেলে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত শিশির অধিকারী ও তাঁর পরিবার বিজেপিতে যোগ দেন।
শিশির অধিকারীর এই ক্ষমা চাওয়ার ঘটনায় কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ হওয়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়া—সবই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। সেই কথা ভুলে গিয়ে এই ধরনের নাটক করা মানায় না বলেই মন্তব্য করেন তিনি।
অন্য দিকে, বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, শিশির অধিকারী দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ রাজনীতিক। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর মতো মানুষ এখন খুব কম আছেন। তিনি সময়ের ইঙ্গিত বুঝতে পারছেন এবং সঠিক কথাই বলেছেন বলে দাবি করেন বিজেপি নেতা।













