এসএসসি-র একাদশ–দ্বাদশ শ্রেণির নতুন ফলপ্রকাশের পর হঠাৎই শিরোনামে উঠে এল একটি নাম—নীতিশরঞ্জন বর্মন (SSC Scam)। কয়েক বছর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যে ‘দাগী’ তালিকা প্রকাশ হয়েছিল, সেখানে স্পষ্টভাবে ছিল নীতীশের নাম। আর এবার সেই একই নীতীশরঞ্জনই ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাক পেয়েছেন—যা দেখে শিক্ষাজগৎ, চাকরিপ্রার্থী থেকে শুরু করে আইনজীবী মহল পর্যন্ত সকলের চোখ কপালে উঠে গেছে (SSC Scam)।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দাগী হয়েও তিনি পরীক্ষায় বসলেন কীভাবে?
এই প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়তেই জল গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে (SSC Scam)। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন, এবং বিচারপতি অমৃতা সিনহা মামলাটি গ্রহণ করেন। এর পরেই প্রথমবার মুখ খুলল স্কুল সার্ভিস কমিশন।
এসএসসি জানিয়েছে, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়ার কথা বলেছিল (SSC Scam)। সেই ব্যাখ্যার কারণেই নাকি নীতীশরঞ্জনের নাম তালিকায় উঠে এসেছে। তবে কমিশনের দাবি—যদি কারও ‘দাগী’ অবস্থা ভেরিফিকেশনের সময় ধরা পড়ে, তাঁকে বাদ দেওয়ার সমস্ত ক্ষমতা কমিশনের হাতে রয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে তারা।
কিন্তু বিতর্ক থামছে না। বরং আরও তীব্র হয়েছে নীতীশের স্ত্রীর অভিযোগে (SSC Scam)। তাঁর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে, আর তিনিই প্রথম আইনজীবীকে খবর দেন যে অযোগ্য হয়েও নীতীশ পরীক্ষায় বসেছেন এবং ভেরিফিকেশনের জন্যও ডাক পেয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকেও তুলে ধরা হয়েছে বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য থাকা ছাড়ের বিষয়টি।
কিন্তু এখানেই বড় ফাঁস। বিশেষভাবে সক্ষমদের বয়স বা কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া গেলেও ‘দাগী’ প্রার্থী বসবে না—এ কথা সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে। সেই জায়গায় কোনও ব্যাখ্যা বা ব্যতিক্রম নেই। ফলে উঠছে নতুন প্রশ্ন—এই আইনের ফাঁক কি কাজে লাগাল নীতীশরঞ্জন? আইনজীবীদের একাংশের মত, যেহেতু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল একেও দাগী পরীক্ষায় বসতে পারবে না—সেক্ষেত্রে নীতীশের জায়গাই ছিল না।
কিন্তু ঘটনা তাতে থেমে নেই। রবিবার দিনভর সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিয়োগপ্রার্থী মহলে তোলপাড় চলেছে এই ঘটনা নিয়ে। অভিযোগ উঠছে, কেউ কেউ নীতীশকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন। কেউ আবার বলছেন, এটি এসএসসি-র নজরদারির ভয়ংকর ব্যর্থতা।
এদিকে আদালতের নির্দেশ আসা পর্যন্ত নীতীশরঞ্জনকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন সমস্ত মহল।













