Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • সল্টলেকে নজিরবিহীন কাণ্ড! চাকরিপ্রার্থীদের তুলে নিয়ে গেল পুলিশ—রাতভর উত্তেজনা
রাজ্য

সল্টলেকে নজিরবিহীন কাণ্ড! চাকরিপ্রার্থীদের তুলে নিয়ে গেল পুলিশ—রাতভর উত্তেজনা

ssc rotest
Email :86

সল্টলেকে সোমবার যেন আগুন জ্বলে উঠল (SSC Protest)। নতুন চাকরি প্রার্থীদের মিছিল ক্রমে উত্তপ্ত হয়ে উঠতেই গোটা বিধাননগরকে কার্যত পুলিশ ঘিরে ফেলল। SLST-র নতুন চাকরিপ্রার্থীরা করুণাময়ী থেকে বিকাশ ভবন পর্যন্ত মিছিল করে দাবি তুলছিলেন অভিজ্ঞতার জন্য দেওয়া অতিরিক্ত ১০ নম্বর বাতিলের (SSC Protest)। তাঁদের অভিযোগ—এই নম্বর যোগ করার ফলে বহু যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ মিছিল মুহূর্তেই রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়।

সেন্ট্রাল পার্কের সামনে যখন তাঁরা অবস্থান-বিক্ষোভে বসেন, তখনই পুলিশ হঠাৎ হাজির হয়ে একে একে আন্দোলনকারীদের তুলে নিতে শুরু করে (SSC Protest)। চ্যাংদোলা করে ভ্যানে তোলার দৃশ্য দেখে বিস্ফোরিত হয়ে ওঠেন অন্য বিক্ষোভকারীরা। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়—একসময় পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে পুলিশ ও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে সরাসরি ধস্তাধস্তি শুরু হয় (SSC Protest)।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে যখন আন্দোলনকারীদের ঠেলে-ধাক্কা দিয়ে মেট্রো স্টেশনের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তাঁরা আবার রাস্তায় ফিরে এসে বিক্ষোভে যোগ দিতে না পারেন। বাইরে পুলিশ দরজা আগলে দাঁড়িয়ে থাকে। বহু পুরনো রাজনৈতিক অশান্তির দিনেও এ দৃশ্য দেখা যায়নি বলে দাবি স্থানীয়দের। অনেকেই বলছেন—“এ এক নজিরবিহীন ঘটনা, কলকাতা এমন দৃশ্য আগে দেখেনি।”

চাকরি প্রার্থীদের অভিযোগ—এসএসসি-কে বহুবার চিঠি, ডেপুটেশন, আবেদন—কিছুই কাজ করেনি। তাঁদের বক্তব্য, সরকার কথায় কথায় ‘স্বচ্ছ নিয়োগের’ দাবি করলেও বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও নেই। এক বিক্ষোভকারী ক্ষোভে বলেন, “এটা রাজ্যের লজ্জা। আমাদের ন্যায্য দাবি শোনার বদলে পুলিশ দিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ভোট আসছে—আমরা দেখিয়ে দেব চাকরি চুরির দায় সরকারকে নিতেই হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা এত প্রস্তুত হয়ে আসিনি। সবাই পৌঁছতেও পারেনি। কিন্তু আজ যা হয়েছে, তা আমরা আশা করিনি। আমরা চাইছিলাম রাজপথ দখল করে দাবি জানাতে। কিন্তু পুলিশ আমাদের জোর করে ভ্যানে তোলে। এবার আরও বড় আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

এদিকে সন্ধ্যা নামতেই গোটা এলাকা প্রায় পুলিশ-দখল হয়ে যায়। সন্ধ্যা সাতটার সময়ও চলছিল ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। একদিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাস্তা থেকে তুলছে, অন্যদিকে চাকরি প্রার্থীরা বারবার আবার ফিরে আসছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিধাননগর পুলিশ।

ডিসি বিধাননগর বলেন, “এখানে হাইকোর্টের ক্লিয়ার অর্ডার আছে, কোনওভাবেই ল’-অ্যান্ড-অর্ডার ভায়োলেশন চলবে না। আমরা তাঁদের সেটা দেখিয়েছি। কিন্তু ওঁদের নেতৃত্বই বলছিল, তাঁরা আরও লোক আনবেন। এভাবে জনসমাগম করলে আইন লঙ্ঘন হওয়া ছাড়া উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়েই আমরা ওঁদের সরিয়েছি।”

কিন্তু এই ব্যাখ্যা চাকরি প্রার্থীদের মন ছুঁতে পারেনি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনের উত্তাপ কমার বদলে আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে। আগামী দিন আরও বড় সংঘাতের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts