নতুন করে নেওয়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে ফের তীব্র প্রশ্ন (SSC Scam)। শনিবার সন্ধ্যেবেলা একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নতুন নিয়োগের প্যানেলের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ হতেই যেন আবার জ্বলে উঠল বিতর্কের আগুন। আইনজীবী ফিরদৌস শামিম সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন—অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার পরও কীভাবে পরীক্ষায় বসলেন নীতীশ রঞ্জন বর্মণ নামে এক প্রার্থী (SSC Scam)? আরও বিস্ময়কর, তিনি শুধু পরীক্ষা দেননি, ভেরিফিকেশনের ডাকও পেয়েছেন। আদালতের কড়া নির্দেশের পরও এহেন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে বিরোধীরা।
দেশের সর্বোচ্চ আদালত ছাব্বিশ হাজারের চাকরি বাতিল করে নতুন পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল (SSC Scam)। তখনই আদালত স্পষ্ট বলেছিল—একজন অযোগ্য প্রার্থীও পরীক্ষায় বসতে পারবে না। এসএসসিও আদালতে আশ্বাস দিয়েছিল, ভুল কোনওভাবেই হবে না। বরং বলেছিল, যদি কেউ ভুল করে নতুন পরীক্ষায় বসেও যান, ভেরিফিকেশনে কখনওই ডাক পাবেন না। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত ছবি। নতুন পরীক্ষার ইন্টারভিউ তালিকায় উঠে এল ‘দাগি’ প্রার্থীরই নাম (SSC Scam)।
এসএসসি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে ৯৫৮ নম্বরে নীতীশ রঞ্জন বর্মণের নাম স্পষ্টভাবে রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও রয়েছে বহুদিনের। অথচ তিনি কীভাবে অযোগ্যদের তালিকা পেরিয়ে পরীক্ষায় বসলেন? কোথায় গেল পরীক্ষা পরিচালনার সততার প্রতিশ্রুতি? প্রশ্ন তুলছেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম ও নীতীশের স্ত্রী—দু’জনেই।
টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নীতীশের স্ত্রী বিস্মিত কণ্ঠে বলেছেন, “পারিবারিক কারণে আমি ওদের বিরুদ্ধে ১২৫ এবং ৪৯৮ ধারায় মামলা করেছি। সেই মামলাও চলছে। আমার স্বামীর নাম দাগিদের তালিকায় ছিল। অথচ দেখলাম উনি নতুন পরীক্ষাতেও বসেছেন, আবার ভেরিফিকেশনের ডাকও পেয়েছেন! এটা কী করে সম্ভব, আমি হতবাক।”
অন্যদিকে আইনজীবী ফিরদৌস শামিম আরও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “ওই মহিলাই আমাকে ফোন করে কাঁপা গলায় সব জানান। তিনি নিজেই অযোগ্য প্রার্থীর তালিকায় তাঁর স্বামীর নাম দেখালেন এবং পাশাপাশি নতুন ইন্টারভিউ তালিকায় তাঁর স্বামীর নামও দেখালেন। এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
সমগ্র ঘটনা সামনে আসতেই এত বড় একটি নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের ঝড় উঠেছে। বিরোধীরা দাবি করছে, এই ঘটনা প্রমাণ করে পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থা এখনও ‘ফাঁপা’ ও ‘বেআইনি প্রভাব’ থেকে মুক্ত নয়।













