পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বর্তমান মেয়াদ শেষ হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই (Bengal Governor)। আগামী ৭ মে এই সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সেই কারণে নিয়ম অনুযায়ী তার আগেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। অর্থাৎ হাতে রয়েছে মাত্র কয়েক সপ্তাহ (Bengal Governor)। এই পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে ভোট ঘোষণা করতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ঠিক এই সময়েই রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সি ভি আনন্দ বোস (Bengal Governor)।
বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করেই তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসে। সূত্রের দাবি, আচমকাই তাঁকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়। তারপরই তিনি পদত্যাগ করেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি পোস্ট থেকে জানা গিয়েছে, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন আর এন রবি। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে (Bengal Governor)।
অনেকেরই মনে পড়ছে বছর খানেক আগের একটি ঘটনার কথা। তখন মুর্শিদাবাদে প্রবল অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে ভোট করানো উচিত। তাঁর মতে, শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ভোট করানো কঠিন হতে পারে। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে তবেই মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন।
এবার ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেও এখনও প্রায় ৬০ লক্ষ নামের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ৬ লক্ষ ১৫ হাজার ভোটারের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। হিসেব বলছে, অতিরিক্ত বিচারক বা কর্মী নিয়োগ করা হলেও বাকি প্রায় ৫৪ লক্ষ নথি যাচাই করতে অনেক সময় লেগে যেতে পারে। এই পরিস্থিতিতে সময়মতো ভোট আয়োজন করা কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হলে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করছেন অনেকেই। কারণ ৭ মে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। তার আগে নির্বাচন না হলে প্রশাসনিকভাবে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেই অবস্থায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে বলেও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এর মধ্যে আবার রাজ্যপাল পরিবর্তনের খবর সেই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেকের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাজ্যপালের পদে এমন একজনকে প্রয়োজন যাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা, সাংবিধানিক অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। সেই কারণেই এই পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার অবশ্য এই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন না। তাঁর কথায়, নির্বাচন কমিশনের কারণেই এই সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে একটি নিরপেক্ষ সংস্থা বলা হয়। নিয়ম অনুযায়ী কেয়ারটেকার সরকার অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাতে পারে। তাই এই পরিস্থিতিতে এত বড় সঙ্কট তৈরি হওয়ার কথা নয় বলেই মত তাঁর।













