নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে কবি, অভিনেতা, রাজনীতিবিদ—এসআইআর-এর নোটিস পেয়েছেন একের পর এক পরিচিত মুখ (Viral Video)। কিন্তু তাই বলে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু? এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই এবার নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে নিশানা করে এআই প্রযুক্তির সাহায্যে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, শুনানি কেন্দ্রে হাজির হয়েছেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Viral Video)।
ভিডিয়ো (Viral Video) অনুযায়ী, শুনানিতে কমিশনের অফিসাররা নেতাজিকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র আওতায় ডেকে পাঠিয়েছেন। নাম সুভাষচন্দ্র বসু হলেও সামনে ‘নেতাজি’ লেখা কেন, সেই প্রশ্ন তোলা হয়। এমনকি তাঁর ঠিকানায় বার্লিন লেখা থাকায় তাঁকে ‘ঘুসপেটিয়া’ বলে সন্দেহও করা হয়। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে, নেতাজির কাছে জন্ম সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। তা দেখাতে না পারায় শেষ পর্যন্ত তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দৃশ্য দেখানো হয়েছে ভিডিয়োতে।
এই এআই ভিডিয়োটি তৃণমূলের ‘Banglar Gorbo Mamata’ এক্স হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা হয়েছে। তা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই এসআইআর সংক্রান্ত শুনানির নোটিস পেয়েছেন নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্রকুমার বসু। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল তীব্র বিতর্ক।
পরে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দেয় রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। কমিশনের তরফে জানানো হয়, চন্দ্রকুমার বসুর এনুমারেশন ফর্মে ‘লিঙ্কেজ’ সংক্রান্ত একটি অংশ ফাঁকা ছিল। সেই কারণেই নিয়ম মেনে তাঁকে অন্যান্য ভোটারের মতোই শুনানিতে ডাকা হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনীতি জড়ানোর কোনও কারণ নেই বলেও দাবি করা হয় (Viral Video)।
নেতাজি প্রসঙ্গ এর আগেও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। শুক্রবার রেড রোডে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকীতে মাল্যদান করতে গিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন ছিল, নেতাজির জন্মদিন এখনও জাতীয় ছুটি ঘোষিত হয়নি। আজ নেতাজি বেঁচে থাকলেও কি তাঁকেও শুনানিতে ডাকা হত? একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসু ইতিমধ্যেই শুনানির নোটিস পেয়েছেন।
এই আবহেই তৃণমূলের আইটি সেলের প্রধান দেবাংশু ভট্টাচার্যকেও সপরিবারে এসআইআর শুনানিতে ডাকা হয়েছে। দেবাংশুর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল সমর্থকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে বানান ভুল করিয়েছে। তাঁর দাবি, তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ বিএলও-রাই এই ভুল করেছেন, যার ফলে বহু মানুষের নাম ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-তে পড়ছে। সেই বিষয় নিয়েই তৃণমূল অযথা হইচই করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।











