রামসার স্বীকৃত জলাভূমিতে একের পর এক বেআইনি গোডাউন তৈরি হয়ে আজ কার্যত বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে এলাকা (Anandapur fire)। নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তাকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিগত ১৪ বছরে জলাভূমি ভরাটের অভিযোগে প্রশাসন মোট ৩৫৯টি এফআইআর দায়ের করলেও বাস্তবে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হয়নি বলেই অভিযোগ (Anandapur fire)।
রামসার জলাভূমিতে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে সিএজি একাধিকবার উপগ্রহ চিত্র-সহ রিপোর্ট জমা দিয়েছে জাতীয় পরিবেশ আদালতে (Anandapur fire)। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, জলাভূমির প্রায় ৪৫ থেকে ৫৫ শতাংশ অংশ ইতিমধ্যেই ভরাট হয়ে গিয়েছে। তবু রাজ্য প্রশাসন ও পরিবেশ দফতর কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডে স্পষ্ট হয়েছে, এই সব গোডাউনে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও নিয়মিত অডিটই হয় না।
সিএজি রিপোর্টে আরও উল্লেখ রয়েছে, জলাভূমি রক্ষা করা সাধারণ মানুষের পাশাপাশি প্রশাসনেরও দায়িত্ব। জলাশয় বুজিয়ে নির্মাণ করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ রাজ্য প্রশাসন নিজের উন্নয়ন খাতের টাকা খরচ করে জলাভূমি এলাকায় স্থায়ী হোর্ডিং লাগিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে (Anandapur fire)।
সিএজির তথ্য অনুযায়ী, জলাশয় ভরাট করে লোহার কাঠামো ও কংক্রিটের ছোট-বড় বহু নির্মাণ গড়ে উঠেছে। এগুলি রক্ষা করার দায় রাজ্য সরকারের থাকলেও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়নি। জলাশয় ভরাটের অভিযোগে থানায় এফআইআর দায়ের করেই দায়িত্ব শেষ করেছে প্রশাসন ও কলকাতা পুরসভা, এমনটাই দাবি রিপোর্টে।
খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নির্দেশে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলসম্পদ বিভাগ এবং রাজ্য সরকারের বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি দফতর যৌথভাবে শহরের পুকুর ও জলাভূমি নিয়ে সমীক্ষা চালিয়েছিল। পুরসভায় জমা দেওয়া সেই রিপোর্টে জানানো হয়, রামসার জলাভূমির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। জলাশয় ক্রমশ ছোট হয়ে যাচ্ছে এবং ঐতিহ্যশালী এই জলাভূমির জমি প্লট করে বেআইনিভাবে বিক্রি করা হয়েছে।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে, ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে, আগামী চার বছরের মধ্যে জলাভূমি-সহ গোটা এলাকাকে বেআইনি নির্মাণমুক্ত করে পরিবেশবান্ধব করা হবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আনন্দপুরের দগ্ধ গোডাউন নিয়েও একই অভিযোগ উঠেছে। দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু জানিয়েছেন, বিষয়টি ভূমি দফতর দেখবে। তাঁর কথায়, দমকলের ডিজির সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থার কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ফায়ার অডিট হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। ফরেনসিক দল আসবে, এফআইআর দায়ের হবে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।








