২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই তিনি (Partha Chatterjee) ছিলেন রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের অন্যতম। কিন্তু ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সব কিছুই বদলে যায়। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর মন্ত্রিত্ব যায়। তৃণমূল তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। টানা তিন বছরের বেশি সময় জেলে কাটানোর পর তিনি এখন জামিনে মুক্ত। আর সেই অবস্থাতেই তৃণমূল জমানায় প্রথমবার বিধানসভার কমিটিতে জায়গা পেলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)।
বিধানসভার বিভিন্ন কমিটির সদস্য নির্বাচন করেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে (Partha Chatterjee) দুটি কমিটিতে রাখা হয়েছে। একটি লাইব্রেরি কমিটি এবং অন্যটি আবাসন, অগ্নি নির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা এবং বিপর্যয় মোকাবিলা সংক্রান্ত স্ট্যান্ডিং কমিটি। বিধানসভা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মন্ত্রী ছাড়া প্রায় সব বিধায়ককেই কোনও না কোনও কমিটিতে রাখতে হয়। পার্থ এখন আর মন্ত্রী নন, তবে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ হয়নি। ফলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে কমিটিতে রাখতেই হয়েছে।
এই বিষয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বিধায়করা সাধারণত দুটি কমিটিতে থাকেন—একটি বিধানসভা কমিটি এবং একটি স্ট্যান্ডিং কমিটি। বিধায়ক পদ বহাল থাকলে নিয়ম অনুযায়ী কমিটিতে থাকা বাধ্যতামূলক। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর পাশাপাশি আর একটি বিষয় নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) আসন বদল হয়নি। এতদিন তাঁর জন্য নির্দিষ্ট ছিল বিধানসভার ৭ নম্বর ব্লকের ৫ নম্বর রো-র ২৭২ নম্বর আসন। জল্পনা চলছিল, জেল থেকে ফেরার পর তাঁর আসন বদল হবে কি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আসন অপরিবর্তিতই থেকেছে। এই প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই বলেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহস থাকলে জেলে যাওয়া নেতাদের টিকিট না দিয়ে দেখান। তাঁর মন্তব্য, পার্থ যদি আবার ভোটে দাঁড়ান, তাতেও তাঁরা অবাক হবেন না। তৃণমূল দুর্নীতিগ্রস্তদের পুরস্কৃত করছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
পার্থর পাশাপাশি বিধানসভায় আসন বদল হয়নি ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরেরও। আগে যেমন ৬ নম্বর ব্লকের ২০৯ নম্বর আসনে তিনি বসতেন, এবারের বাজেট অধিবেশনেও একই আসনে তাঁকে দেখা গিয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও তৃণমূলকে নিশানা করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, মুসলিম ভোট যাতে অন্য দলে না সরে যায়, সে কারণেই তৃণমূল হুমায়ুন কবীরকে সামনে রেখেছে। প্রয়োজন হলে পরে তাঁকে সামলানো হবে বলেও কটাক্ষ করেন বিরোধী দলনেতা।













