প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায় (Mukul Roy)। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। দল গঠনের শুরুর সময় যখন কংগ্রেস ভেঙে নতুন দল তৈরি হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল এবং অনেক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যাচ্ছিলেন, তখন দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন মুকুল রায় (Mukul Roy)। দলের সংগঠন গড়ে তোলা এবং বুথ স্তরে শক্তি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংগঠনিক দক্ষতার জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন এবং দলের প্রতিটি স্তরের খবর তাঁর নখদর্পণে থাকত। দলকেই নিজের পরিবার মনে করে দীর্ঘ সময় দলীয় কার্যালয়েই পরিবারসহ থাকতেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন।
দুই হাজার ছয় সালে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে সিঙ্গুর এবং নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময় তিনি (Mukul Roy) ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধা। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এবং দুই হাজার এগারো সালে রাজ্যে পালাবদলের পরও দলীয় সংগঠনে সক্রিয় ছিলেন। দুই হাজার তেরো সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংগঠন শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা নেন তিনি। সেই সময় প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীদের তৃণমূলে যোগদানের কর্মসূচি চলতে থাকে, যা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে সাহায্য করেছিল।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে সারদা কেলেঙ্কারি এবং নারদা স্টিং অপারেশন মামলায় নাম জড়ানোয় দলের ভিতরে দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করে (Mukul Roy)। ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কেও টানাপড়েন বাড়ে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। একইসঙ্গে দলের ভিতরে অভিযোগ ওঠে যে তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী হয়ে উঠছেন এবং তাঁর পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। বর্ষীয়ান নেতাদের একাংশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে থাকে এবং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপা অস্বস্তি তৈরি হয়। এসব বিতর্কের মধ্যেই ধীরে ধীরে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা পরবর্তী সময়ে বাংলার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।












