আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণ সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সম্মান প্রাপকদের তালিকা প্রকাশের পর থেকেই কিছু ক্ষেত্রে বিতর্কও (West Bengal Election) দেখা দিয়েছে। পৃথক কামতাপুরের দাবিতে সরব থাকা রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজ-এর বঙ্গবিভূষণ প্রাপ্তি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছিল, তেমনই এবার মতুয়া সমাজের গোঁসাই মৃণালকান্তি বিশ্বাস-এর বঙ্গভূষণ পাওয়া ঘিরেও নতুন বিতর্ক (West Bengal Election) শুরু হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের রাজনীতির কারণেই এই সম্মান প্রদান করা হয়েছে। পাল্টা শাসক শিবিরের দাবি, মতুয়া সমাজের উন্নয়ন ও সম্মান প্রদানে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার দেশপ্রিয় পার্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান গ্রহণ করেন মৃণালকান্তি দাস, যিনি মৃণাল গোঁসাই নামেই পরিচিত। সামাজিক কাজ ও মতুয়া সমাজের উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে (West Bengal Election)। বাহাত্তর বছর বয়সী মৃণালবাবু ‘হরি গুরুচাঁদ ভক্তি’ নামে একটি সেবামূলক সংগঠন গড়ে তুলেছেন এবং একটি বিদ্যালয় তৈরির উদ্যোগও নিয়েছেন। মানুষের বিপদে পাশে থাকা এবং মতুয়া সমাজের উন্নয়নে তাঁর কাজের জন্য স্থানীয়দের মধ্যে তিনি পরিচিত মুখ।
সম্মান পাওয়ার পর মৃণালকান্তি বিশ্বাস জানান, সারা জীবন হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুর-এর আদর্শ মেনে মতুয়া সমাজের জন্য কাজ করে গিয়েছেন তিনি। রাজ্য সরকারের এই সম্মান তাঁর কাজের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও জানান এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন (West Bengal Election)।
সম্মান নিয়ে বাড়ি ফেরার পর মতুয়া ভক্তদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়। রবিবার সকালে মালা পরিয়ে, কীর্তন ও হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে তাঁকে বরণ করে নেন ভক্তরা। উত্তর চব্বিশ পরগনার বাগদার হেলেঞ্চা এলাকার বাসিন্দা মৃণাল গোঁসাই সরকারি জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরে কর্মরত ছিলেন এবং দুই হাজার পনেরো সালে অবসর নেন। কর্মজীবনের পাশাপাশি উনিশশো সাতাশি সাল থেকেই মতুয়া সমাজের উন্নয়নে কাজ শুরু করেন। পরে বাগদার বৈকোলায় হরি গুরুচাঁদ ভক্ত সেবা সংঘ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এই সংস্থার উদ্যোগে হরিচাঁদ মন্দির ও একটি দাতব্য চিকিৎসালয় গড়ে উঠেছে এবং একটি বিদ্যালয় তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে বঙ্গভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছে রাজ্য সরকার।











