বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের ভাতা নিয়ে রাজ্যের রাজনীতিতে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে (CPIM)। রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডারে ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে বিজেপিও ক্ষমতায় এলে আরও বেশি ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে (CPIM)। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে হুমায়ুন কবীরও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পিছিয়ে থাকেননি মহম্মদ সেলিম। তিনি জানিয়েছেন, বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে মহিলাদের আরও বেশি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং তা কীভাবে সম্ভব হবে তাও ব্যাখ্যা করেছেন।
রবিবার সারা ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেলিম (CPIM)। সেখানে বৃন্দা কারাত-এর লেখা রীতা হয়ে ওঠা বইয়ের উদ্বোধন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এখনও মেয়েদের শিক্ষার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে, যার ফলে অল্প বয়সে বিয়ে ও মাতৃত্বের ঘটনাও বাড়ছে (CPIM)। পাশাপাশি কুসংস্কার ও মেয়ে পাচারের ঘটনাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে দাবি করেন তিনি। স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের ড্রপ আউট কমাতে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে পরিবহণ চালুর প্রস্তাবও দেন সেলিম।
এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিভিন্ন প্রকল্পের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, কেরল বহু বছর আগে কুটুম্বশ্রী প্রকল্প চালু করেছে এবং রাজ্যের একাধিক ‘শ্রী’ প্রকল্প সেই মডেলের অনুকরণ। এরপর লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মহিলাদের কাজ, মজুরি ও উন্নয়নের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়ায় আয় কমছে এবং ব্যয় বাড়ছে। ভোটের আগে ভাতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিকে তিনি মন ভোলানোর রাজনীতি বলে কটাক্ষ করেন।
সেলিমের বক্তব্য, এই ধরনের সহায়তা প্রকল্পকে দয়া বা অনুদান নয়, অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা দরকার। তিনি দাবি করেন, তামিলনাড়ু ও কেরল-সহ একাধিক রাজ্যে বেশি পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, অল্প অঙ্কের টাকা দিয়ে বড় ভান্ডারের প্রচার করা হচ্ছে, অথচ দুর্নীতির অভিযোগে বিপুল অর্থ উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়ন ও স্থায়ী আয়ের সুযোগ তৈরি না হলে এই ধরনের প্রকল্পে মহিলাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।












