ভোটের আগে আচমকাই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সি ভি আনন্দ বোস (Bengal Governor)। এই খবর সামনে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বলে জানা গিয়েছে (Bengal Governor)। তবে শুধু বাংলাতেই নয়, এই একটি পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উচ্চস্তরে বড় প্রশাসনিক রদবদলের ছবিও সামনে এসেছে। একসঙ্গে একাধিক রাজ্যের রাজ্যপাল এবং উপরাজ্যপাল পদে পরিবর্তন করা হয়েছে।
সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর এন রবিকে (Bengal Governor)। এতদিন তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ছিলেন। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। একসময় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এবং গোয়েন্দা সংস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এবার ভোটের মুখে থাকা পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রবির তামিলনাড়ু ছাড়ার ফলে সেখানে একটি শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে (Bengal Governor)। সূত্রের খবর, সেই দায়িত্ব আপাতত সামলাবেন কেরলের রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
এদিকে হিমাচল প্রদেশেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। লাদাখের উপরাজ্যপাল কবিন্দর গুপ্তকে হিমাচল প্রদেশের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে লাদাখের উপরাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দিল্লির প্রাক্তন উপরাজ্যপাল ভিনাই কুমার সাক্সেনাকে।
দিল্লিতেও নতুন নিয়োগ হয়েছে। ভিনাই কুমার সাক্সেনার পরিবর্তে সেখানে উপরাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন কূটনীতিক তরণজিৎ সিং সাধুকে। তিনি আগে আমেরিকায় ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন।
বিহারেও নতুন রাজ্যপাল নিয়োগ করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক সৈয়দ আতা হাসনাইনকে বিহারের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
হিমাচল প্রদেশের রাজ্যপাল শিব প্রতাপ শুক্লাকে এবার তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে তেলেঙ্গানার রাজ্যপাল জিষ্ণু দেব বর্মাকে পাঠানো হয়েছে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল হিসেবে।
মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল পদটি সম্প্রতি শূন্য হয়ে যায়। কারণ সেখানকার রাজ্যপাল সি পি রাধাকৃষ্ণন উপরাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর সেই পদ ছেড়ে দেন। এরপরই নতুন করে নিয়োগ করা হয়েছে।
এছাড়াও নাগাল্যান্ডেও পরিবর্তন করা হয়েছে। বিহার বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ নন্দ কিশোর যাদবকে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
একসঙ্গে এতগুলি রাজ্যে রাজ্যপাল এবং উপরাজ্যপাল পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পরিবর্তন হওয়ায় এই সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক গুরুত্ব নিয়েও জল্পনা বাড়ছে।













