ভোটের আগে লক্ষ্মীর ভান্ডারকে হাতিয়ার করছে শাসক ও বিরোধী—এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা মাসে আরও ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর ঠিক তার পরদিন, শুক্রবার বিধানসভার ভিতরে বিজেপির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) হাতে দেখা গেল একটি পোস্টার। সেখানে লেখা, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বলেন, এটি আসলে একটি ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট। এই ধরনের বাজেটে এত বড় ঘোষণা কার্যকর করা যায় না। নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হলে এই সব ঘোষণা বাস্তবায়ন হবে না বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা যা পাচ্ছেন, তার বেশি কিছু পাবেন না।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আর একশো দিনেরও কম সময় বাকি। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবারের বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক জনকল্যাণমূলক ঘোষণা করা হয়েছে। মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে ‘বাংলার যুবসাথী’ প্রকল্পে। পাশাপাশি আশা কর্মীদের ভাতা মাসে ১০০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণাও করা হয়েছে।
এই সব ঘোষণা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, এই বাজেট মে মাস পর্যন্তই কার্যকর থাকবে। ফলে মানুষকে ভুল বোঝানো হচ্ছে। বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলা হলেও তা দেওয়া সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি। অতীতের উদাহরণ টেনে শুভেন্দু বলেন, একসময় বেকার ভাতার জন্য দেড় লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। কিছুদিন টাকা দেওয়া হলেও পরে সেই প্রকল্পের কোনও খোঁজ নেই।
এদিন তিনি (Suvendu Adhikari) রাজ্যের ঋণের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন এত ঋণ নেওয়া হচ্ছে এবং কেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়ে সরকারকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়কদের পেনশন বাড়ানোর দাবিও তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ২০২৬ সালের নির্বাচনে সনাতন শক্তির জয় নিশ্চিত।
তবে বিধানসভার ভিতরে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে বিজেপির সেই পোস্টার। তৃণমূলের প্রকল্পকে টক্কর দিতে বিজেপিও যে একই ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।












