ভোট ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি সহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
সোমবার আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে কল্যাণ (Kalyan Banerjee) দাবি করেন, এই ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যে এক ধরনের অঘোষিত জরুরি অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, সংবিধানের ধারা প্রয়োগ না করেই কমিশন নিজেদের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজ্যে অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি (Kalyan Banerjee) অভিযোগ করেন, রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই গুরুত্বপূর্ণ পদে এই বদলি করা হয়েছে, যার ফলে প্রশাসনিক কাজে প্রভাব পড়ছে।
কল্যাণ (Kalyan Banerjee) আরও জানান, বহু জেলাশাসক ও পুলিশ আধিকারিককে একসঙ্গে বদলি করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন পুলিশ প্রধানকে বদলি করা যেতে পারে, কিন্তু মুখ্যসচিব বা সদ্য দায়িত্ব নেওয়া পুলিশ কমিশনারকে এত দ্রুত কেন সরানো হল। তাঁর দাবি, শুধু ক্ষমতা আছে বলেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অভিশংসন আনার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত দেশের ফেডারেল কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন। অন্য রাজ্যেও নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু সেখানে এমন কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি।
একই সঙ্গে আদালতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Kalyan Banerjee) এই মামলা করার অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তোলে কমিশন। তাদের বক্তব্য, তিনি আগে রাজ্যের আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, ফলে এই মামলার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কমিশনের আরও দাবি, প্রয়োজনীয় তথ্য গোপন করেই এই মামলা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়ে গেল। আদালতের রায় এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।












