বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। দুপুর ১২টার কিছু পরে সেখানে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। প্রথমে তিনি যান প্রতীক জৈনের বাড়িতে, পরে সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসে। বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়, হাতে ফাইল নিয়ে। দফতর থেকে গাড়িতে তোলা হয় একাধিক ফাইল ও হার্ডডিস্ক। ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে রাজ্যের সংঘাত এই ঘটনায় আরও তীব্র হয়ে ওঠে। বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত (Mamata Banerjee)।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশির সময় শতাধিক ডেস্কটপের মধ্যে মাত্র একটি কম্পিউটার চিহ্নিত করা হয়েছিল (Mamata Banerjee)। সেই কম্পিউটার থেকে সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা হ্যাশ ভ্যালু তৈরির কাজ শুরু করেন। এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। এরপর ব্যাকআপ নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিক সেই সময়েই মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য পুলিশের একটি দল সেখানে পৌঁছয়। অভিযোগ, মাঝপথেই ব্যাকআপ নেওয়ার কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
ইডির দাবি, তল্লাশির সময় যে ফাইল ও নথিগুলি বাছাই করা হয়েছিল, সেগুলি সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ নিয়ে যায়। আইপ্যাকের দফতরের যে ঘরে তল্লাশি চলছিল, ঠিক সেখানেই পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের ডিজি রাজীব কুমার। ইডি আধিকারিকদের একাংশের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে শান্ত ও ভদ্র আচরণ করেন। তবে ডিজির ভূমিকা নিয়ে ভিন্ন মত রয়েছে বলে সূত্রের খবর।
একই পরিস্থিতি তৈরি হয় প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও। সেখানেও ব্যাকআপ ও নথি বাছাইয়ের কাজ সবে শুরু হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে পৌঁছনোর পর তল্লাশির কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ইডি সূত্রে দাবি, আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে কোনও নথি বা ডিজিটাল তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি তারা।
সাধারণত কোনও ফাইল বা তথ্যের প্রমাণ অক্ষুণ্ণ রাখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা হ্যাশ ভ্যালু তৈরি করেন। প্রমাণে সামান্য বদল হলেই এই ভ্যালু বদলে যায়। তাই যে কোনও তদন্তে হ্যাশ ভ্যালুর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ মাঝপথে থেমে যাওয়াতেই তদন্তে বড় ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছে ইডির একাংশ।
রাজ্যের শাসকদলের সঙ্গে যুক্ত একটি পরামর্শদাতা সংস্থার দফতরে তল্লাশির গুরুত্ব ঠিকমতো আঁচ করা যায়নি কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পরিকল্পনার ঘাটতির কারণেই কি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতছাড়া হল, তা নিয়ে আত্মসমালোচনাও করছেন ইডির কিছু আধিকারিক। তাঁদের মতে, ডিজিটাল ফরেনসিক দল আরও আগে পৌঁছলে অন্তত কিছু তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হত।
বৃহস্পতিবারের গোটা ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট অর্থ মন্ত্রকে পাঠিয়েছে ইডি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে আলাদা রিপোর্ট জমা দিয়েছে সিআরপিএফ। পাশাপাশি, ইডির সদর দফতরেও একটি ইনসিডেন্ট রিপোর্ট জমা করা হয়েছে।











