মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধের মধ্যে ইরান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে বলে খবর প্রকাশ্যে এসেছে (Election Commissioner)। তেহরানের যুদ্ধকক্ষ নাকি বাব এল মানদেব প্রণালী বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। যদি আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়ায়, তাহলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Election Commissioner)।
একটি সামরিক পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মুজতবা খামেনেইকে বেছে নেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর বাবা ও ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনেই আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হওয়ার পর থেকেই সংঘাত বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে যদি ইরানের নেতৃত্বের উপর নতুন করে হামলা হয়, তাহলে পারস্য উপসাগর এবং বাব এল মানদেব প্রণালী বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে (Election Commissioner)।
বাব এল মানদেব প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। এটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে এবং সুয়েজ খালের মাধ্যমে ভূমধ্যসাগর থেকে ভারত মহাসাগর পর্যন্ত জাহাজ চলাচলের অন্যতম প্রধান পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আরব উপদ্বীপের ইয়েমেন এবং আফ্রিকার জিবুতির মাঝখানে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Election Commissioner)।
এর আগেই যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালীর জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সংঘাতের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই ওই পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে যায়। ইরান ওই পথ বন্ধ ঘোষণা করার পর সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করা কয়েকটি জাহাজের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। গত আটাশ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দশ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। ইউরোপ এবং এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও দ্রুত বাড়ছে, কারণ এই অঞ্চলগুলির অনেক দেশ বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির উপর নির্ভরশীল।
ইরান ইতিমধ্যেই প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর উপর হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বহু উৎপাদক দেশ রফতানি কমাতে বাধ্য হয়েছে। সৌদি আরবের বড় তেল সংস্থা আরামকো তাদের দুটি তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরাক, কুয়েত এবং কাতারও উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, কারণ জাহাজে করে রফতানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সংরক্ষণের জায়গাও কমে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপর চাপ বাড়ছে। আমেরিকার কর্মকর্তারা বিশ্বের উন্নত দেশগুলির একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলেও জানা গেছে। সেখানে জরুরি পরিস্থিতিতে মজুত তেল বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে খবর।







