চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Voter List) প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু তাতে জায়গা হয়নি ৬০ লক্ষ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের। তাঁরা এখন অমীমাংসিত তালিকায় ঝুলে রয়েছেন। আদৌ তাঁরা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। এই বিপুল সংখ্যক অমীমাংসিত ভোটারকে ঘিরে রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা (Voter List)।
পরিসংখ্যান বলছে, ৬০ লক্ষ অমীমাংসিতের মধ্যে ৩৭ লক্ষ ৯০ হাজার ৮৪৭ জনের নাম রয়েছে মাত্র ৬টি জেলায় (Voter List)। এই জেলাগুলির মধ্যে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলাগুলিকে সংখ্যালঘু প্রভাবিত বলেই পরিচিত (Voter List)।
সবচেয়ে বেশি অমীমাংসিত নাম রয়েছে মুর্শিদাবাদে, ১১ লক্ষ ১ হাজার ১৪৫। মালদহে ৮ লক্ষ ২৮ হাজার ১২৭ এবং উত্তর দিনাজপুরে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ৩৪১ জনের নাম ঝুলে রয়েছে। নদিয়ায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার ৯৪০, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ৯১ হাজার ২৫২ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৫ লক্ষ ২২ হাজার ৪২ জনের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে (Voter List)।
এই তালিকা প্রকাশের পরই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নুর। তাঁর অভিযোগ, বেছে বেছে কিছু জেলার নাম অমীমাংসিত তালিকায় রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় ভোট হলে তা বয়কটের আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, আগে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হোক, তারপর নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা উচিত। প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার কথাও বলেন তিনি।
অমীমাংসিত তালিকা নিয়ে সরব হয়েছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তাঁর অভিযোগ, ধর্ম ও অঞ্চলভিত্তিকভাবে এই তালিকা তৈরি হয়েছে। মতুয়া, উদ্বাস্তু, আদিবাসী ও অনগ্রসর শ্রেণির মানুষদেরও অনিশ্চয়তায় ফেলা হয়েছে। একই সুর শোনা গিয়েছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-র গলায়। তাঁর মতে, ৬০ লক্ষ মানুষ ঝুলে থাকলে সেই ভোট কখনও বৈধতা পাবে না।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ-ও অভিযোগ তুলেছেন, যেখানে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেশি, সেখানে টার্গেট করে অমীমাংসিত তকমা দেওয়া হয়েছে। জীবিত মানুষকে মৃত দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় পাল্টা তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, আদালতে গিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে তৃণমূলই। এখন প্রতিবাদ করে লাভ নেই।
ভোটের আগে ৬০ লক্ষ অমীমাংসিত ভোটারের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন ঘুরছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। এই তালিকা নিষ্পত্তি না হলে নির্বাচনের বৈধতা নিয়েও জোর বিতর্ক তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।













