ভোটের আগে ফের বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। রাজ্য পুলিশের ১৪৯ জন আধিকারিককে একসঙ্গে বদলি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ইন্সপেক্টর এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসাররা রয়েছেন। কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই আধিকারিকরা ভোট সংক্রান্ত কোনও কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই নির্দেশ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Election Commission)।
ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই প্রশাসনে একের পর এক বদল করা হচ্ছে (Election Commission)। শুরুতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানো হয়। এরপর রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন জেলার জেলাশাসক, নির্বাচন আধিকারিক, পুলিশ সুপার এবং পুলিশ কমিশনারদেরও বদলি করা হয়েছে। অনেক সিনিয়র অফিসারকে অন্য রাজ্যে ভোটের পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে (Election Commission)।
এই সব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই বিষয় নিয়ে কমিশনকে চিঠিও দেওয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে। এমনকি এই ইস্যু হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। তৃণমূলের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে এই বদলি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই প্রশাসনিক রদবদল বাড়ছে। বৃহস্পতিবার কমিশনের পক্ষ থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ১৪৯ জন আধিকারিককে অবিলম্বে নতুন জায়গায় যোগ দিতে হবে। আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, তাঁরা ভোটের কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং সে বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।
এই তালিকায় রয়েছেন ৮১ জন ইন্সপেক্টর। পাশাপাশি ৬৮ জন সাব-ইন্সপেক্টরকেও বদলি করা হয়েছে। এর আগে ২৯ মার্চও প্রায় ১৫০ জন ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরকে সরানো হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ৪৯ জন সাব-ইন্সপেক্টর এখনও একই জেলায় কাজ করছিলেন। এবার তাঁদের অন্য জেলায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, রাজ্যে এবার দুই দফায় ভোট হবে। প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যেই মনোনয়ন জমা শেষ হয়েছে। হাতে আর খুব কম সময় বাকি। এর মধ্যেই সব রাজনৈতিক দল জোর প্রচার চালাচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে। সম্প্রতি ভোটার তালিকা নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে কমিশনের দফতরে যান তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেখান থেকে তাঁদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে।










