ভোটের আগে আবার সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED Raid)। রেশন দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে কলকাতা, হাওড়া, হাবড়া, বনগাঁ ও মুর্শিদাবাদ-সহ মোট পনেরোটি স্থানে অভিযান চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা (ED Raid)।
সূত্রের খবর, উত্তর চব্বিশ পরগনায় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তে নেমেই এই তল্লাশি অভিযান। অভিযোগ, রেশনের গম বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল (ED Raid)। তদন্তে উঠে এসেছে, সরকারি গম চুরি করে তা সীমান্ত পেরিয়ে পাচার করা হত। এই ঘটনায় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিও তদন্তের আওতায় রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতার পোদ্দার কোর্ট ও মিন্টো পার্ক এলাকায় একাধিক অফিসে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একটি খাদ্যপণ্য সংস্থার অফিসেও অভিযান চলছে। একই ঠিকানায় একাধিক সংস্থার উপস্থিতি থাকায় তদন্তকারীরা বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছেন। তল্লাশির সময় কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে (ED Raid)।
তদন্তকারীদের দাবি, দুই হাজার কুড়ি সালে সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ গম পাচারের চেষ্টা হয়েছিল। প্রায় একশো পঁচাত্তরটি ট্রাকে করে পাঁচ হাজার টনের বেশি গম পাচারের অভিযোগ উঠেছিল, যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ষোলো কোটি টাকা। সেই ঘটনায় শুল্ক দফতর হস্তক্ষেপ করে পাচার আটকায়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
এর আগেও এই মামলায় তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক গ্রেফতার করা হয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত এবং এবারও নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে বাংলাকে টার্গেট করা হচ্ছে (ED Raid)। তাঁর দাবি, বিরোধীদের দমাতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, বাংলার মানুষই পরিবর্তন চাইছেন এবং কোনও সংস্থার প্রয়োজন নেই, জনগণের রায়ই শেষ কথা বলবে (ED Raid)।
এই তল্লাশি অভিযানের ফলে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং দুর্নীতি ইস্যুতে চাপানউতোর নতুন মাত্রা পেয়েছে।












