আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে ইডি তল্লাশিকে (ED Raid) ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ইডি (ED Raid) সূত্রে খবর, দুপুর ১২টার মধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। দিল্লিতে ইডির সদর দফতরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক যে রিপোর্ট চেয়েছে, তাতে ঘটনার সময় কোথায় কী হয়েছিল, তার সমস্ত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। কোন কোন ইডি অফিসার (ED Raid) সেখানে উপস্থিত ছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কার কার কথা হয়েছে, কী কথা হয়েছে, সব কিছুই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
এই ঘটনা রাজ্যে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ED Raid) সঙ্গে সংঘাতের পুরনো স্মৃতি আবার উসকে দিয়েছে। কখনও নিজাম প্যালেসে গিয়ে সিবিআই দফতরের সামনে ধর্না, আবার কখনও সিবিআই পৌঁছনোর আগেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাজির হওয়ার ঘটনার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। এবার ইডির অভিযান চলাকালীন আইপ্যাকের কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে পৌঁছে যান খোদ মুখ্যমন্ত্রী।
ইডি লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি শুরু করতেই (ED Raid) সেখানে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেরোনোর সময় তাঁর হাতে ফাইল ও ল্যাপটপ দেখা যায় বলে অভিযোগ। এর পর তিনি যান সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের অফিসেও। এই ঘটনা ঘিরে বিরোধীরা পাঁচ বছর আগে নিজাম প্যালেসে সিবিআই দফতরের সামনে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নার প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ শুরু করেছে।
এদিকে এই তল্লাশি নিয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বিজেপি অফিসেও তল্লাশি চালানোর হুঁশিয়ারি দেন। ভোটের মুখে কয়লাকাণ্ডের তদন্তে আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে ইডি তল্লাশি রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তথ্য চুরি এবং দলের নির্বাচনী কৌশল চুরি হয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী অমিত শাহকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশকে রক্ষা করতে পারছেন না, উল্টে তাঁর দলের নথিপত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভোটে লড়াই করার সাহস থাকলে বাংলায় এসে বিজেপিকে লড়াই করার চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন তিনি।
ইডির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ আধিকারিক সেখানে ঢোকার আগ পর্যন্ত তল্লাশির কাজ শান্তিপূর্ণ ও নিয়ম মেনেই চলছিল। ইডির দাবি, মুখ্যমন্ত্রী প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে যান। পরে তাঁর কনভয় আইপ্যাকের অফিসে যায়, সেখান থেকেও মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর সহযোগী ও রাজ্য পুলিশের কর্মীরা জোর করে নথি ও ডিজিটাল প্রমাণ সরিয়ে নিয়ে যান। এর ফলে তদন্ত প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা।












