ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারের উপর চাপ আরও বাড়াতে নতুন কৌশল নিল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ (DA Movement)। নবান্নে গিয়ে ডেপুটেশন দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় ডিএ আন্দোলনকারীদের। শেষ পর্যন্ত নবান্নে ঢুকতে না পেরে ট্রাফিক গার্ডের রিলিভিং সেন্টারেই পুলিশ কর্মীদের হাতে ডেপুটেশন জমা দেন তাঁরা (DA Movement)।
ডেপুটেশন দেওয়ার পর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের (DA Movement) আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি বলেন, পুলিশ কর্মীদের কাছেই ডেপুটেশন দেওয়া তাঁদের কাছে লাভজনক হয়েছে। কারণ পুলিশ কর্মীরাও সরকারি কর্মী। তাঁরাই এখন তাঁদের প্রতিনিধি হয়ে সেই দাবি নবান্নে পৌঁছে দেবেন।
ভাস্কর ঘোষের কথায়, পুলিশ কর্মীরা নীরবেই একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁরাও সরকারি কর্মী হিসেবে ডিএ না পাওয়ার যন্ত্রণার শরিক। তাঁর বক্তব্য, পুলিশ কর্মীরাও বুঝিয়ে দিয়েছেন যে ডিএ না মেটালে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নিতে পারে (DA Movement)। তিনি বলেন, তাঁরা খুশি যে সরকারি চাকরিতে তাঁদের সহকর্মীরাই এই বার্তাটি নবান্নে পৌঁছে দিচ্ছেন।
পাশাপাশি রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীদের আরও বেশি করে রাস্তায় নামার আহ্বান জানান ভাস্কর ঘোষ। তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে ২৫ শতাংশ ডিএ অবিলম্বে মেটাতে হবে। কিন্তু রাজ্য সরকার এখনও সেই রায় কার্যকর করেনি। তাঁর অভিযোগ, রায় ঘোষণার পরের মুহূর্ত থেকেই ডিএ দেওয়ার কথা থাকলেও সরকার তা করেনি।
ভাস্করের দাবি, অন্তর্বর্তী বাজেটেই প্রমাণ মিলেছে সরকার ডিএ দিতে আগ্রহী নয়। কারণ ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লাগবে, অথচ বাজেটে তার কোনও সংস্থান রাখা হয়নি। তিনি বলেন, সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করতে টালবাহানা করবে বলেই তাঁদের ধারণা।
সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ভাস্কর ঘোষ। তিনি জানান, সরকার যদি রিভিউ পিটিশনের পথে যায়, তবে কর্মচারী সমাজ রাজ্য সরকারকে অচল করে দেওয়ার দায়িত্ব নেবে।
এই প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করে বলেন, ভাস্কর ঘোষের বাড়ি ভাঙলে কি ডিএ মামলার রায় বদলে যায়? তাঁর মন্তব্য, সরকার যত বেশি দমনমূলক আচরণ করবে, ততই তাদের বিদায়ের সময় দ্রুত এগিয়ে আসবে।









