মধ্য কলকাতার আদালত চত্বর ঘিরে এক সিপিএম (CPIM) ঘনিষ্ঠ আইনজীবীকে নিয়ে গুরুতর বিতর্ক সামনে এসেছে। অভিযোগ, তাঁর চেম্বারে কর্মরত একাধিক মহিলা জুনিয়র আইনজীবী দীর্ঘদিন ধরে যৌন হেনস্তার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি এক মহিলা জুনিয়র এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাঠিয়েছেন সিপিএম রাজ্য নেতৃত্বের কাছে (CPIM)। অভিযোগপত্রটি পাঠানো হয়েছে মহম্মদ সেলিমকে। অভিযোগ সামনে আসতেই আইনজীবী মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
অভিযোগকারিণীর দাবি, সিনিয়র ওই আইনজীবী (CPIM) প্রায় ত্রিশ জন মহিলা জুনিয়রের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়মিতভাবে অশালীন আচরণের মুখে ফেলতেন। অসমর্থিত সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য ওই মহিলা আইনজীবীকে (CPIM) মোটা অঙ্কের অর্থ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রায় পঁচিশ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে দাবি। তবে অভিযোগকারিণী সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি বলেই জানা যাচ্ছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি।
আইনজীবীটিকে বিভিন্ন টেলিভিশন আলোচনায় বামপন্থী মতের (CPIM) পক্ষে সওয়াল করতে দেখা যায়। অভিযোগকারী মহিলা আরও দাবি করেছেন, ওই আইনজীবীর আচরণের শিকার তাঁর একাধিক সহকর্মীও। আদালত চত্বরের একটি চেম্বার থেকেই এই সব ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ। সেখানে প্রায় ত্রিশ জন জুনিয়র কাজ করেন, যাঁদের বেশিরভাগই মহিলা। চেম্বারে দুই করণিক ও এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ও কাজ করেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চেম্বারের ভিতরে একটি অ্যান্টিচেম্বার রয়েছে, যেখানে অশালীন আচরণের ঘটনা ঘটত বলে দাবি করেছেন কয়েকজন (CPIM)। আদালত থেকে ফেরার পর কয়েকজন মহিলা জুনিয়রকে ব্যক্তিগত কাজ করতেও বাধ্য করা হত বলে অভিযোগ উঠেছে। রাতে কর্মীরা চলে যাওয়ার পর ওই অ্যান্টিচেম্বারে ডেকে পাঠানো হত পছন্দের জুনিয়রদের। বাইরে থেকে একজন আত্মীয় নজরদারি করতেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদ জানালে ওই আইনজীবী নিজের প্রভাব ও ক্ষমতার কথা বলে ভয় দেখাতেন বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গভীর রাত পর্যন্ত তাঁকে চেম্বারে থাকতে দেখা যেত। পারিবারিক জীবন নিয়েও নানা অশান্তির কথা শোনা যাচ্ছে। সহকর্মীদের অনেকেই জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অপমানজনক আচরণ সহ্য করলেও ভবিষ্যৎ পেশাগত ক্ষতির আশঙ্কায় তাঁরা মুখ খুলতে ভয় পেতেন।
তবে লিখিত অভিযোগ সামনে আসার পর কয়েকজন মহিলা আইনজীবী সাহস পেয়েছেন বলেও খবর। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। পুরো ঘটনাকে ঘিরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি মার্ক্সবাদী ঘনিষ্ঠ আইনজীবী মহলেও।











