ভোটের আগে নিজেদের নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করল বিজেপি (BJP Manifesto)। এই ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দলের দাবি, প্রায় দশ হাজার বিশিষ্ট মানুষের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সংকল্পপত্র তৈরি করা হয়েছে। অমিত শাহ জানিয়েছেন, এই ইস্তাহার বাংলাকে নতুন দিশা দেখাবে এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে (BJP Manifesto)।
এই সংকল্পপত্রে মোট পনেরোটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। মহিলাদের আর্থিক সাহায্য থেকে শুরু করে যুবকদের কর্মসংস্থান, কৃষি ও শিল্প—সব ক্ষেত্রেই জোর দেওয়া হয়েছে (BJP Manifesto)। সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা। বিজেপি জানিয়েছে, তারা ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। মাসের এক থেকে পাঁচ তারিখের মধ্যে এই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
এছাড়া বেকার যুবক-যুবতীদের জন্যও মাসে তিন হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের জন্য চাকরি ও স্বনির্ভর হওয়ার সুযোগ তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে (BJP Manifesto)।
মহিলাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। ‘দুর্গা সুরক্ষা স্কোয়াড’ নামে একটি বিশেষ মহিলা পুলিশ বাহিনী গঠন করা হবে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য তেত্রিশ শতাংশ সংরক্ষণ রাখা হবে। পাশাপাশি অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের এককালীন একুশ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া মকুব করার কথাও বলা হয়েছে (BJP Manifesto)।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য সপ্তম বেতন কমিশন চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ডিএ বকেয়া মেটানো এবং শূন্যপদ দ্রুত পূরণ করার কথাও ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দুর্নীতি রুখতে সিন্ডিকেট রাজ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। গত পনেরো বছরে দুর্নীতির হিসেব তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
কৃষকদের জন্য ধান, আলু ও আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। মৎস্যজীবীদের জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। রাজ্যকে একটি বড় শিল্পকেন্দ্র এবং মাছ রপ্তানির ক্ষেত্রে শীর্ষ রাজ্যে পরিণত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
চা ও পাট শিল্পের উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং চায়ের বিশ্বজোড়া পরিচিতি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি পাটশিল্প আধুনিকীকরণের কথাও বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু বড় প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালুর কথাও উল্লেখ রয়েছে। গবাদিপশু পাচার রুখতেও কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও একাধিক পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত চালু করা হবে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে স্তন ক্যানসার পরীক্ষা এবং টিকাকরণের ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরবঙ্গে নতুন এইমস, আইআইটি ও আইআইএম গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া কুড়মালি ও রাজবংশী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ধর্মাচরণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আইন তৈরি করার কথাও বলা হয়েছে। সব মিলিয়ে ভোটের আগে বিজেপির এই ইস্তাহার রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।











