আনন্দপুরের নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire) কার্যত তছনছ হয়ে গেল একটি নামজাদা মোমো তৈরির কারখানা এবং সংলগ্ন একটি ডেকরেটর্সের গুদাম। টানা দু’দিন ধরে আগুনের তাণ্ডবে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৬ জন। অনেকেরই খোঁজ মেলেনি এখনও। চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ আর হাহাকার। মৃতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে রাজ্য সরকার (Anandapur Fire)। চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যাঁরা নিখোঁজ, তাঁদের কী হল, সেই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড়।
এই ভয়াবহ ঘটনার প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বীরেন্দ্র যাদব। তিনি পাশের ডেকরেটর্স গুদামের লাগোয়া একটি খাটালের মালিক (Anandapur Fire)। আগুন দেখতে পেয়েই তিনিই প্রথম দমকলকে ফোন করেন। কিন্তু ১০১ নম্বরে ফোন করলে কলটি পৌঁছে যায় জেলা কন্ট্রোল রুমে। অভিযোগ, সেখান থেকে সঙ্গে সঙ্গে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তাঁকে বলা হয় কলকাতার কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে। পরে তিনি এক পরিচিতের সাহায্যে কলকাতার দমকল কন্ট্রোল রুমে ফোন করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী।
এই সময়ের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। নিজের খাটাল বাঁচাতে বীরেন্দ্র নিজস্ব পাম্প চালিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন (Anandapur Fire)। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত গরু ও মহিষগুলিকে কোনও রকমে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিজেও প্রাণ বাঁচিয়ে এলাকা ছাড়েন তিনি।
বীরেন্দ্র যাদব জানান, রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ তিনি আগুন দেখতে পান। তাঁর রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আগুন জ্বলতে দেখেন। খাটালে থাকা গরু-মোষের কথা ভেবে তিনি খুব ভয় পেয়ে যান। তাই নিজের মোটর চালিয়ে জল দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আগুন এতটাই ভয়ানক ছিল যে কিছুই করা যায়নি। শুধু প্রাণীগুলোকে বাঁচানোর চেষ্টাই করতে পেরেছেন তিনি।
দু’দিন কেটে গেলেও এখনও নিখোঁজদের কোনও খোঁজ মেলেনি। দগ্ধ ধ্বংসস্তূপের নীচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিয়েই এখন উদ্বেগ বাড়ছে। আনন্দপুরের এই অগ্নিকাণ্ড ঘিরে একের পর এক প্রশ্ন উঠছে দমকলের তৎপরতা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।









