টলিউডে নেমে এসেছে গভীর শোক। এখনও যেন কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না, আর নেই অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Rahul Banerjee)। মাত্র বিয়াল্লিশ বছর বয়সে তাঁর আকস্মিক মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতে বড় শূন্যতা তৈরি করেছে। রবিবার সন্ধ্যায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা ইন্ডাস্ট্রি। সহকর্মী, বন্ধু থেকে শুরু করে অসংখ্য অনুরাগী শোক প্রকাশ করছেন।
১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর এক নাট্য পরিবারে জন্ম রাহুলের (Rahul Banerjee)। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর বাবা বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাট্যদলের হাত ধরেই খুব অল্প বয়সে মঞ্চে ওঠেন। দীর্ঘ কেরিয়ারে প্রায় চারশোরও বেশি মঞ্চাভিনয় করেছেন তিনি। অভিনয়ের প্রতি এই গভীর ভালোবাসাই তাঁকে ধীরে ধীরে ছোট পর্দা ও বড় পর্দায় প্রতিষ্ঠা দেয় (Rahul Banerjee)।
ছোট পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের নজরে আসেন রাহুল (Rahul Banerjee)। তবে ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। সেই ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়। এরপর একাধিক সিনেমা ও ধারাবাহিকে কাজ করে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। টেলিভিশনেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। পাশাপাশি নাটক, ওয়েব সিরিজ এবং পডকাস্ট— সব ক্ষেত্রেই নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও রাহুল ছিলেন আলোচনায় (Rahul Banerjee)। সহ-অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক পর্দা ছাড়িয়ে বাস্তবেও গড়ায়। তাঁদের এক সন্তানও রয়েছে। মাঝখানে দূরত্ব তৈরি হলেও পরে আবার একসঙ্গে জীবন শুরু করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেই নতুন শুরু বেশিদিন টিকল না।
রাহুলের চলে যাওয়া শুধু একজন অভিনেতার মৃত্যু নয়, বরং এক প্রতিভাবান শিল্পীর অকাল প্রস্থান। তাঁর অভিনীত চরিত্র, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর উপস্থিতি— সবই রয়ে যাবে দর্শকের মনে। বাংলা বিনোদন জগতের এই ক্ষতি সহজে পূরণ হওয়ার নয়।













