ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছে আমেরিকা ও ইজরায়েল (Middle East Crisis)। এই যৌথ হামলার নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন সিংহ গর্জন’। এই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে (Middle East Crisis)। তবে এই যুদ্ধের আর্থিক চাপ এখন স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে আমেরিকার উপরেই।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার পর প্রথম একশো ঘণ্টাতেই আমেরিকার খরচ হয়েছে প্রায় তিন দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার (Middle East Crisis)। ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় একত্রিশ হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এত অল্প সময়ের মধ্যে এত বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
আমেরিকার একটি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের রিপোর্টে বলা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুতেই খরচ সবচেয়ে বেশি হয় (Middle East Crisis)। কারণ এই সময়েই অত্যন্ত আধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই প্রথম একশো ঘণ্টায় খরচের পরিমাণ এত দ্রুত বেড়ে যায়।
রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় নব্বই কোটি ডলার করে খরচ হয়েছে এই যুদ্ধে। যুদ্ধ চলাকালীন বিভিন্ন ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়। প্যাট্রিয়ট ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় এক দশমিক সাত বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (Middle East Crisis)।
এছাড়াও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে আকাশপথে হামলা চালাতে প্রায় একশো পঁচিশ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এই বিপুল ব্যয়ের একটি অংশ আগে থেকেই মার্কিন প্রতিরক্ষা বাজেটের মধ্যে ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অতিরিক্ত কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে গিয়েছে। সেই কারণে ভবিষ্যতে এই যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হলে আলাদা তহবিলের প্রয়োজন হতে পারে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে রিপোর্টে। যুদ্ধের প্রথম একশো ঘণ্টায় দুই হাজারেরও বেশি ধরনের অস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এই অস্ত্রগুলি আবার নতুন করে মজুত করতে আমেরিকার আরও বিপুল অর্থ খরচ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র অস্ত্র পুনরায় সংগ্রহ করতেই প্রায় তিন দশমিক এক বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে, তাহলে খরচের পরিমাণ আরও অনেক বাড়বে। সেই পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের উপর আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসের কাছে অতিরিক্ত বাজেটের অনুমোদন চাইতে হতে পারে।
তবে সেই অনুমোদন পাওয়া সহজ নাও হতে পারে। কারণ আমেরিকায় ইতিমধ্যেই মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বাড়ছে এবং তেলের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অবস্থায় যুদ্ধের জন্য আরও বিপুল অর্থ বরাদ্দ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও নতুন করে বিতর্ক শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।












