Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • বিদেশ
  • মধ্যপ্রাচ্যে বড় সামরিক আঘাত! ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের
বিদেশ

মধ্যপ্রাচ্যে বড় সামরিক আঘাত! ইরানের গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ ধ্বংসের দাবি ট্রাম্পের

donald trump aw
Email :1

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে বড় দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Middle East Crisis)। তিনি জানিয়েছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে একটি শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে থাকা সব সামরিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে। এই হামলাকে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক অভিযানের অন্যতম বলে দাবি করেছেন (Middle East Crisis)।

নিজের সামাজিক মাধ্যমে একটি বার্তায় ট্রাম্প জানান, তাঁর নির্দেশেই মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অভিযান চালায়। তাঁর দাবি, খার্গ দ্বীপে ইরানের সমস্ত সামরিক লক্ষ্যবস্তু সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে (Middle East Crisis)। তবে তিনি বলেন, দ্বীপে থাকা তেল অবকাঠামোর উপর হামলা চালানো হয়নি।

ট্রাম্পের বক্তব্য, মানবিক কারণেই আপাতত তেলের স্থাপনাগুলিকে লক্ষ্য করা হয়নি। কিন্তু তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে (Middle East Crisis)।

হরমুজ প্রণালী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। বিশ্বের মোট তেল পরিবহণের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়েই হয়। ফলে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।

ট্রাম্প আরও বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র অত্যন্ত শক্তিশালী ও আধুনিক। তাঁর দাবি, আমেরিকা যদি কোনও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে চায়, তা প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ইরানের নেই (Middle East Crisis)।

তিনি আবারও বলেন, ইরানকে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, ইরান যাতে যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্য বা বিশ্বের অন্য কোনও অংশকে হুমকি দিতে না পারে, সেটাই আমেরিকার অবস্থান।

ট্রাম্প ইরানের সেনাবাহিনীকেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সংঘাত বাড়ানোর পথ ছেড়ে দেওয়াই তাদের জন্য ভালো হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এই ঘটনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানকে ঘিরে সংঘাত ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

খার্গ দ্বীপ ইরানের উপকূল থেকে প্রায় তেত্রিশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি ছোট প্রবাল দ্বীপ। কিন্তু এই দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপ থেকেই বিদেশে রপ্তানি করা হয়।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান প্রায় তেরো দশমিক সাত মিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করেছে বলে জানা গেছে। উপগ্রহ ছবিতেও দেখা গেছে, ওই দ্বীপে একাধিক তেলের ট্যাঙ্কার তেল বোঝাই করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপে বড় ধরনের হামলা হলে ইরানের অর্থনীতিতে মারাত্মক ধাক্কা লাগতে পারে। কারণ দেশের আয়ের বড় অংশই তেল রপ্তানির উপর নির্ভর করে।

এই দ্বীপের দক্ষিণ অংশে বিশাল তেল সংরক্ষণাগার এবং রপ্তানি অবকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি সেখানে হাজার হাজার কর্মীর বসবাসের ব্যবস্থাও আছে। আশ্চর্যের বিষয়, তেল শোধনাগার ও ডিপোর আশপাশে বন্য হরিণও দেখা যায়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনৈতিক টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, যদি কোনওভাবে ইরান এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে দেশের অর্থনীতি গুরুতর সংকটে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আরও মত, এই দ্বীপের উপর নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক আলোচনায় বড় কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ খার্গ দ্বীপকে ইরানের অর্থনীতির প্রধান কেন্দ্র বলে মনে করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts