যে আশঙ্কা ঘুরছিল আন্তর্জাতিক মহলে, সেটাই সত্যি হল। শনিবার ভোররাতে ভেনেজুয়েলায় (Venezuela) সামরিক হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ঘোষণা, ভেনেজুয়েলার (Venezuela) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তবে এই দাবি এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি ভেনেজুয়েলা সরকার (Venezuela)। উল্টে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মাদুরো আদৌ জীবিত আছেন কি না। সেই সংক্রান্ত প্রমাণ প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে কারাকাস।
ভেনেজুয়েলার (Venezuela) একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রডরিগেজ বলেন, মাদুরোকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না। সেই কারণেই আমেরিকার কাছে মাদুরোর জীবিত থাকার প্রমাণ চাওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে মার্কিন সেনেটর মাইক লি দাবি করেছেন, এই বিষয়ে তিনি মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডলে মাইক লি লেখেন, রুবিও জানিয়েছেন যে আমেরিকায় মাদুরোর বিরুদ্ধে চলা একাধিক ফৌজদারি মামলার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য তাঁকে আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নিকোলাস মাদুরোর সম্পর্ক অত্যন্ত তিক্ত। দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক সেনা মোতায়েন করে আমেরিকা। এর পরেই মাদুরো অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর সরকারকে উৎখাত করার জন্য সামরিক পদক্ষেপের পথে হাঁটছে ওয়াশিংটন।
মাদুরোর দাবি ছিল, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভেনেজুয়েলার শাসন ব্যবস্থা বদলাতে চাইছেন ট্রাম্প। সেই উত্তেজনার মধ্যেই নতুন বছরের শুরুতেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালাল মার্কিন সেনা।
এর আগেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল আমেরিকা। গত মাসে ভেনেজুয়েলা ও সংলগ্ন অঞ্চলের আকাশসীমা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলার তেল ট্যাঙ্কার চলাচলের উপরও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাতের মূল কারণ তেল। ভেনেজুয়েলার কাছে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম খনিজ তেলের ভাণ্ডার। প্রতিদিন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন হয় সেখানে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে মাদুরো সরকার। তাতেই অস্বস্তিতে পড়ে আমেরিকা।
এর মধ্যেই কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলার একটি বন্দরে মার্কিন হামলা হয়েছে বলে দাবি করে সিএনএন। অভিযোগ ছিল, ওই বন্দর ব্যবহার করে মাদক পাচার করা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ওই হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়












