মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে (Middle East Crisis)। এই পরিস্থিতিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য সাময়িক ছাড় দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ভারত অতীতে তাদের অনুরোধে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছিল এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলেছে। সেই কারণেই এই বিশেষ অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট, অর্থমন্ত্রী এবং জাতীয় নিরাপত্তা দলের আলোচনার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Middle East Crisis)। তাঁর কথায়, ভারত এত দিন দায়িত্বশীল আচরণ করেছে এবং আগেও আমেরিকার অনুরোধে নিষেধাজ্ঞা থাকা রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করেছিল। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের জন্য সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় প্রভাব পড়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালীর উপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের প্রায় কুড়ি শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই জলপথ দিয়ে হয়। ফলে উত্তেজনা বাড়তেই তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে (Middle East Crisis)।
এই অবস্থায় সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে ভারতকে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এর ফলে রাশিয়ার বড় আর্থিক লাভ হবে না বলেই মনে করছে আমেরিকা।
গত সপ্তাহেই মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ত্রিশ দিনের সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্থিতি বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Middle East Crisis)।
স্কট বেসেন্ট আরও বলেন, মার্কিন প্রশাসনের জ্বালানি নীতির ফলে দেশে তেল ও গ্যাস উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে এই সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তিনি ভারতকে আমেরিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন যে ভবিষ্যতে ভারত আমেরিকা থেকেও বেশি পরিমাণে তেল কিনবে।
মার্কিন প্রশাসনের মতে, ইরানের কারণে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে তা কমাতেই এই সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।












