ইরানকে নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনার কথা বললেও এতদিন পর্যন্ত কার সঙ্গে কথা চলছে তা প্রকাশ করেনি আমেরিকা। এবার প্রথমবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি জানান, খুব শীঘ্রই বোঝা যাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি কি না। তাঁর কথায়, এক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে (Donald Trump)।
ট্রাম্পের (Donald Trump) এই মন্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরান সাম্প্রতিক হামলায় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিকাঠামোকে নিশানা করেছে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, খুব শীঘ্রই সবাই সব দেখতে পাবে।
অন্যদিকে ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তারা কোনওভাবেই পিছিয়ে আসবে না। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার জানিয়েছেন, এই সংঘাত জয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হবে এবং আত্মসমর্পণের কোনও প্রশ্নই নেই।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প (Donald Trump) আরও দাবি করেন, ইরানের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন হয়েছে। তাঁর মতে, আগের নেতৃত্ব আর নেই, এখন নতুন নেতৃত্ব এসেছে এবং তারা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত। তিনি আরও বলেন, আগের অনেক নেতাই আর বেঁচে নেই।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, আমেরিকা ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই অনেক অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি খুব দ্রুত কোনও সমাধান না হয়, তাহলে আমেরিকা কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এমনকি ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেল ক্ষেত্র এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, ইরানের জল সরবরাহের ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে, যদিও এখনও তা করা হয়নি। এই হুমকিকে তিনি অতীতের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।
এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর আক্রমণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে এবং সেই সময়সীমা নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত চলবে।
যদিও ইরানের তরফে সরাসরি কোনও আলোচনার কথা অস্বীকার করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের আলোচনার প্রস্তাব আসলে অন্য উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। তবে পাকিস্তানের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, খুব শীঘ্রই আলোচনা শুরু হতে পারে।












