মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেছেন, আমেরিকার সরকারের ভেতরেই কেউ গোপনে তথ্য ফাঁস করছে। সম্প্রতি ইরানের মাটিতে আটকে পড়া এক মার্কিন বিমানকর্মীকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এই তথ্য ফাঁসের কারণে অত্যন্ত গোপন সামরিক অভিযান ঝুঁকির মুখে পড়েছিল।
ট্রাম্প (Donald Trump) বলেন, প্রশাসন জোরকদমে সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে, যে এই সংবেদনশীল তথ্য বাইরে ফাঁস করেছে। তাঁর দাবি, এই তথ্য প্রকাশের ফলে ইরানের বাহিনী জানতে পেরে যায় যে আরও এক মার্কিন সেনা সদস্য তাদের এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে। ফলে উদ্ধার অভিযান আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
এখানেই থামেননি ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সাংবাদিক প্রথম এই খবর প্রকাশ করেছেন, তিনি যদি তাঁর সূত্র প্রকাশ না করেন, তাহলে তাঁকে জেলে যেতে হতে পারে। ট্রাম্পের কথায়, “যে এই খবর করেছে, সে যদি উৎস না জানায়, তাকে জেলে যেতে হবে।”
যদিও তিনি (Donald Trump) কোনও নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করেননি, তবে জানা যাচ্ছে, একাধিক বড় সংবাদমাধ্যম এই ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করেছিল। ট্রাম্পের অভিযোগ, এই ধরনের গোপন তথ্য প্রকাশ করা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প (Donald Trump) উদ্ধার অভিযানের বিশাল আকারের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই অভিযানে প্রায় একশোর বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছিল। চারটি বোমারু বিমান, বহু যুদ্ধবিমান, জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং উদ্ধারকারী বিশেষ বিমান মিলিয়ে এই অপারেশন চালানো হয়। ইরানকে বিভ্রান্ত করতে বিভিন্ন কৌশলও নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, আহত ওই বিমানকর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় পাহাড়ি এলাকায় উঠে লুকিয়ে ছিলেন এবং সেখান থেকেই মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। শেষ পর্যন্ত সফলভাবে তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে এত গোপন সামরিক তথ্য বাইরে চলে গেল এবং এর পেছনে কারা জড়িত। মার্কিন প্রশাসনের ভিতরে এই ‘ফাঁস’ নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।











