বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চের ডাভোস সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রথম চার্টার প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তবে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্যের চেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠল কে এলেন, কে এলেন না এবং গোটা অনুষ্ঠানের কূটনৈতিক বার্তা নিয়ে (Donald Trump)।
ডাভোসে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মঞ্চসজ্জাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, যাঁর দেশ এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়েছিল, তাঁকে প্রথম সারিতে দেখা যায়নি। এই বিষয়টি অনেকের কাছেই ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চোখে পড়েছে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা। ট্রাম্পের (Donald Trump) দাবি করা এই ‘বিশ্ব বদলে দেওয়ার’ মঞ্চে যোগ দেয় ২০টিরও কম দেশ, যা আগাম আমন্ত্রণের সংখ্যার তুলনায় অনেকটাই কম।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি গাজা সংঘাত মেটাতে তাঁর ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে ‘বোর্ড অব পিস’-এর কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তখন ভারত, চিন-সহ অন্তত ৬০টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। ইউরোপ, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার একাধিক দেশও সেই তালিকায় ছিল। তবে কূটনৈতিক ও নীতিগত কারণে বহু দেশ এই প্রস্তাব থেকে দূরে থাকে।
শেষ পর্যন্ত ডাভোসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রনেতা ও কূটনীতিকেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো, প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা, উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োইয়েভ, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ।
ট্রাম্প এই ‘বোর্ড অব পিস’-কে আন্তর্জাতিক সংঘাত মেটানোর নতুন মঞ্চ বলে দাবি করেছেন। জানা যাচ্ছে, এই বোর্ডের স্থায়ী সদস্য হতে গেলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ফি দিতে হতে পারে। শুরুতে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য এই বোর্ডের কথা ভাবা হলেও, এখন তাকে আরও বিস্তৃত বৈশ্বিক সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সবাই এই বোর্ডের অংশ হতে চাইছে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রসংঘের সঙ্গেও একযোগে কাজ করবে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, এই বোর্ড প্রশাসনিক দক্ষতা গড়ে তোলা, আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নয়ন, পুনর্গঠন, বিনিয়োগ টানা এবং বড় অঙ্কের তহবিল সংগ্রহের কাজ করবে। সম্ভাব্য সদস্যদের পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প এই উদ্যোগকে ‘বিশ্ব সংঘাত মেটানোর এক সাহসী নতুন পথ’ এবং ‘ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী বোর্ড’ বলে বর্ণনা করেছেন।











