মঙ্গলবার সকালে ইরানের (Iran) রাজধানী তেহরানের পশ্চিম অংশে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়াল। জনবহুল বাজারে এই আগুন এতটাই ভয়ংকর ছিল যে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। ঘটনার পরপরই বিশাল সংখ্যক দমকল ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহরানের জান্নাত আবাদ এলাকার একটি বাজারে আগুন লাগে। ওই এলাকায় ছোট বড় বহু দোকান ও স্টল রয়েছে। সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ আগুন লাগে জান্নাত আবাদ শোমালি এলাকার একটি শপিং কমপ্লেক্সে। প্রায় ২ হাজার বর্গমিটার জুড়ে থাকা ওই বাজার তখন খোলা ছিল এবং প্রচুর ক্রেতা ও বিক্রেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
তেহরান (Iran) দমকল বিভাগের মুখপাত্র জালাল মালেকি জানান, আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে শহরের একাধিক জায়গা থেকে তা দেখা যাচ্ছিল। দমকলকর্মীরা পৌঁছনোর আগেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বাজার চত্বর থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠে আশপাশের আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকাকে ঢেকে ফেলে।
খবর পেয়েই একাধিক দমকল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, চারদিক থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে, যাতে তা আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানে ছড়িয়ে না পড়ে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত আগুন লাগার কারণ নিয়ে কোনও সরকারি বিবৃতি মেলেনি ((Iran))। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে তদন্ত শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ইরানে একাধিক বড় শিল্প ও বাজার এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অনেক ক্ষেত্রেই পুরনো পরিকাঠামো ও নিরাপত্তার ঘাটতির কথা উঠে এসেছে, যদিও এই আগুনের সঙ্গে এখনও সেগুলির কোনও যোগ পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান ও আমেরিকার মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা চরমে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঞ্চলটিতে বিশাল সামরিক শক্তি পাঠানোর কথা বলেছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু চুক্তি নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনি বিদেশমন্ত্রীকে আমেরিকার সঙ্গে ন্যায্য আলোচনার পথে এগোনোর নির্দেশ দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক মহলে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে থেকে আগুনের অবশিষ্ট অংশ নেভানো ও এলাকা ঠান্ডা করার কাজ চালিয়ে যান।












