আফগানিস্তানে (Afganistan) আবারও সঙ্গীতের উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালিবান প্রশাসন। বাজেয়াপ্ত করা শতাধিক বাদ্যযন্ত্র প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পারওয়ান প্রদেশে। বন্দুকধারী তালিবান সদস্যরা জোব্বা ও মুখোশ পরে তবলা, ড্রাম, হারমোনিয়াম, গিটার, তুমবক, দাফ এবং আফগানিস্তানের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র রুবাব-সহ পাঁচশোরও বেশি বাদ্যযন্ত্র আগুনে নষ্ট করে দেয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিল্পী মহলে (Afganistan)।
সঙ্গীতকে অনৈতিক কাজ বলে মনে করে তালিবান সরকার (Afganistan)। চারিত্রিক গুণের প্রসার ও দোষ প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি বিশেষ মন্ত্রক গঠন করা হয়েছে, যারা ধর্মীয় বিধিনিষেধ মেনে সমাজে কী গ্রহণযোগ্য আর কী নয় তা নির্ধারণ করছে। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গানবাজনাকে দোষের তালিকায় রাখা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, শুধু পারওয়ানেই নয়, লাঘমান প্রদেশেও শতাধিক বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে (Afganistan)।
দুই হাজার একুশ সালে ফের ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই তালিবান সঙ্গীতকে হারাম ঘোষণা করে (Afganistan)। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজার চব্বিশ সালেই একুশ হাজারের বেশি বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করা হয়েছে। বিয়ে, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা জনসমাবেশ— কোথাও গান বাজানোর অনুমতি নেই। স্কুলে সঙ্গীত শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং মহিলাদের জনসমক্ষে গান গাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রেডিও ও টেলিভিশন থেকেও সঙ্গীত অনুষ্ঠান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেবল ধর্মীয় স্তোত্র প্রচারের অনুমতি রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, গত কয়েক বছরে সঙ্গীত তৈরি, পরিবেশন বা শোনার অভিযোগে বহু মানুষকে আটক করা হয়েছে। ভয়ের পরিবেশে অনেক শিল্পী দেশ ছেড়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধু সাংস্কৃতিক চর্চাকেই নয়, আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের সঙ্গীত ঐতিহ্যকেও গুরুতর আঘাত করছে।











