তিনি নাকি অবসর নিতে চেয়েছিলেন। দেশ ছাড়ার সময় সেটাই ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর শেষ অধ্যায়—এমন ইঙ্গিতই ২৪ ঘণ্টা আগে এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দিয়েছিলেন শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। সেই বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা? আওয়ামি লিগের ভবিষ্যৎই বা কী? ঠিক সেই জল্পনার মধ্যেই প্রকাশ্যে এল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর একটি অডিয়ো বার্তা। অন্তরালে থেকেও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, লড়াই শেষ হয়নি (Sheikh Hasina)।
অডিয়ো বার্তায় শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) দাবি করেছেন, বর্তমান ইউনূস প্রশাসন ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ। তিনি বলেন, আজ গোটা বাংলাদেশ একটি বিশাল কারাগারে পরিণত হয়েছে। তাঁর কথায়, দেশ এখন ‘ভ্যালি অফ ডেথ’-এ দাঁড়িয়ে রয়েছে, যেখানে মানুষ ধ্বংসের মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই করছে। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি দায়ী করেছেন ইউনূস সরকারকে এবং দেশবাসীর উদ্দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানের জেরে ৫ অগস্ট বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। সেই সময় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, তাঁর উৎখাতের পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। এবার অডিয়ো বার্তায় আবারও সেই অভিযোগ সামনে আনলেন তিনি। শেখ হাসিনার দাবি, ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ফ্যাসিবাদী ও জঙ্গি শক্তির যোগসাজশেই এই ষড়যন্ত্র হয়েছে।
ইউনূসকে সরাসরি বার্তা দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, নিজের দেশের মানুষকে উপেক্ষা করা বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, তিনি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু ষড়যন্ত্র করে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, সেই দিন থেকেই দেশ সন্ত্রাসের কবলে পড়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, নারী ও কন্যারা নিরাপত্তাহীন, জীবন ও সম্পত্তির কোনও নিশ্চয়তা নেই। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে এবং বিচারব্যবস্থা মানুষের কাছে আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।
শুধু ইউনূস প্রশাসন নয়, দেশের এই অবস্থার জন্য বিদেশি শক্তিকেও দায়ী করেছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অভিযোগ, বাংলাদেশের সম্পদ লুঠের জন্য বাইরের শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং একটি অনির্বাচিত শক্তি এখন দেশ চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি বাংলাদেশের জন্য ‘অন্ধকার যুগ’ বলে উল্লেখ করেছেন। সেই অন্ধকার কাটিয়ে উঠতে দেশবাসীকে আবারও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।











