হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বড় অচলাবস্থা তৈরি হল। মঙ্গলবার রাশিয়া ও চিন সেই প্রস্তাবে ভেটো দেয়। ফলে প্রস্তাবটি পাশ হয়নি। ভোটাভুটিতে ১১টি দেশ সমর্থন করলেও ২টি দেশ বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
এই ভোটাভুটির আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে না দিলে ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে। তাঁর কথায়, “একটি গোটা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।” এই মন্তব্যের পরেই আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল এই পথ দিয়েই পরিবহণ হয়। তাই এই পথ বন্ধ থাকলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়ে। ইরান এই পথ নিয়ন্ত্রণ করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বাহরিনের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি আনা হয়েছিল। শুরুতে প্রস্তাবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের কথাও ছিল। কিন্তু রাশিয়া ও চিনের আপত্তির কারণে সেই ভাষা বদলে শুধু প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা রাখা হয়। তাতেও শেষ পর্যন্ত ভেটো এড়ানো যায়নি (Strait of Hormuz)।
প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে দেশগুলিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে জাহাজগুলিকে নিরাপত্তা দিতে হবে এবং যেকোনও বাধা প্রতিরোধ করতে হবে। একই সঙ্গে ইরানকে অবিলম্বে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করারও দাবি জানানো হয়।
তবে রাশিয়া ও চিন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আমেরিকা ও ইজরায়েলকেই সংঘাতের জন্য দায়ী করেছে। তাদের মতে, এই সংঘাত আরও বড় আকার নিচ্ছে এবং তা থামানো জরুরি।
উল্লেখ্য, এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পাশ হয়েছিল, যেখানে তাদের হামলার নিন্দা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।













