ইয়েমেনের হৌথি আন্দোলন বা আনসার আল্লাহ রেড সি (Red Sea) এলাকায় অবস্থান নিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহকে বড় ধরণের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, হৌথিরা সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন এবং ইয়ানবুর রপ্তানি বন্দরের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। এই পথগুলো মূলত হরমুজ প্রণালীর বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহার হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হৌথিরা যদি সম্পূর্ণভাবে রেড সি-তে (Red Sea) সরাসরি হস্তক্ষেপ করে, তাহলে ২০২৪–২০২৫ সালের মতো আবার গ্লোবাল শিপিং সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হতে পারে। ওই সময় বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্যকে দীর্ঘ পথে ঘুরে পাঠাতে হয়েছে, যার ফলে শিপিং খরচ বেড়েছিল।
হৌথিরা ইরানের সঙ্গে যুক্ত এবং ইরান সমর্থিত সামরিক পরিকল্পনায় অংশ নিতে প্রস্তুত। তারা হুমকি দিয়েছে যে, যারা ইস্রায়েলের বিরুদ্ধে হামলা থামাতে সাহায্য করবে—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী বা জর্ডান—তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে। শুধু তেল নয়, পানির ডেসালিনেশন প্ল্যান্টও তারা হুমকির মুখে ফেলেছে, যা লাখো মানুষের জন্য জীবনরক্ষাকারী।
হৌথি আন্দোলন মূলত ইয়েমেনের জাইদি শিয়াদের প্রতিনিধিত্ব করে। তারা সানা এবং দেশের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। ১৯৯০-এর দশকে গঠিত এই আন্দোলন এখন ইরান নেতৃত্বাধীন “প্রতিরোধ অক্ষ”ের অংশ। তাদের নেতা আব্দুল-মালিক আল-হৌথি, যিনি ভাই হুসেইন আল-হৌথির পরে দায়িত্ব নিয়েছেন।
২০১৪ সালে হৌথিরা সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের নির্বাসন ঘটায়। অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজা যুদ্ধে ইরান-ইস্রায়েল সংঘাত শুরু হলে, হৌথিরা রেড সী-তে বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, ইউএই ও অস্ট্রেলিয়া তাদেরকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
বিশ্ববাজারে রেড সি এবং হরমুজ প্রণালী একসাথে তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি এই দুই রুটই নিরাপদ না থাকে, তেল মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে, শিপিং বিলম্ব ঘটবে এবং বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে।





