Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • আমিরশাহির না, বড় বিপদে পাকিস্তান! অর্থনীতিতে তীব্র সঙ্কটের ইঙ্গিত
বিদেশ

আমিরশাহির না, বড় বিপদে পাকিস্তান! অর্থনীতিতে তীব্র সঙ্কটের ইঙ্গিত

pakistan economy
Email :3

পাকিস্তানের (Pakistan) দুর্বল অর্থনীতি আবারও বড় ধাক্কা খেল। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সাত বছরের পুরনো ঋণ নবীকরণ করতে অস্বীকার করায় তিনশো কোটি ডলার ফেরত দিতে হয়েছে ইসলামাবাদকে। যদিও পাকিস্তান সরকার একে স্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন বলে দেখানোর চেষ্টা করছে, বাস্তবে এই ঘটনা দেশের অর্থনীতির গভীর সমস্যাকেই সামনে এনে দিয়েছে।

এই বিপুল অর্থ ফেরত দেওয়ায় পাকিস্তানের (Pakistan) বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে বড় চাপ পড়েছে। মার্চের শেষে যা ছিল প্রায় ষোলো হাজার চারশো কোটি ডলার, তার প্রায় আঠারো শতাংশ এক ধাক্কায় কমে গিয়েছে। এই মজুত দিয়ে মাত্র তিন মাসের আমদানি চালানো সম্ভব। তেলের দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য ঘাটতি এবং দুর্বল শিল্প উৎপাদনের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান নিজেদের অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে বিদেশি ঋণ, পুনর্গঠন এবং জরুরি সাহায্যের উপর নির্ভর করে এসেছে (Pakistan)। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং উপসাগরীয় দেশগুলির সাহায্যে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি সামলানো গেলেও এবার আমিরশাহির সিদ্ধান্তে সেই ভরসাতেও ফাটল ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের আর্থিক সহযোগীদের মধ্যেও ধৈর্য কমে আসছে।

এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাজারেও। দেশের প্রধান শেয়ার সূচক ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গিয়েছে (Pakistan)। বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমছে। যদিও আপাতত মুদ্রার দর কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে, তবে রিজার্ভের উপর চাপ বাড়লে দ্রুত অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতার অভাব এবং আর্থিক দুর্বলতাও এই সংকটকে বাড়িয়েছে। আমদানি কমানো বা রপ্তানি বাড়ানোর বদলে বারবার স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পথেই হাঁটছে সরকার। ফলে কয়েক বছর অন্তর অন্তর একই ধরনের সংকটে পড়ছে দেশ।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের (Pakistan) কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার বাড়ানো বা নতুনভাবে ঋণ নেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত অর্থনীতির গতি কমিয়ে দিতে পারে এবং সাধারণ মানুষের উপর চাপ বাড়াতে পারে।

এদিকে সামনে আরও বড় দায় রয়েছে। এই মাসেই আন্তর্জাতিক বন্ড বাবদ বড় অঙ্কের টাকা ফেরত দিতে হবে পাকিস্তানকে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে নতুন ঋণ পাওয়ার অপেক্ষাও চলছে। সেখানে দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আমিরশাহির এই সিদ্ধান্ত শুধু আর্থিক নয়, আস্থার সঙ্কেতও বটে। এতদিন যে দেশগুলি পাকিস্তানকে আর্থিকভাবে ভরসা দিত, তারাও এখন পিছিয়ে আসছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তিতে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েও পাকিস্তান স্বস্তি পাচ্ছে না।

সব মিলিয়ে স্পষ্ট, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া পাকিস্তানের অর্থনীতি বারবার একই সমস্যায় পড়বে। রপ্তানি বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা এবং দেশীয় শিল্প শক্তিশালী না করলে এই সংকটের চক্র থেকে বেরোনো কঠিন। তিনশো কোটি ডলারের এই ঘটনা যেন সেই বড় সংকটেরই স্পষ্ট সতর্কবার্তা।

 

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts