আফগানিস্তানের একাধিক প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে (Pakistan Airstrike)। শুক্রবার এমনই দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার। তাদের অভিযোগ, কাবুল, কান্দাহার এবং পখতিকা প্রদেশে পাকিস্তানের সেনা বিমান হামলা চালিয়েছে (Pakistan Airstrike)। এই হামলায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশু এবং মহিলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে তালিবান প্রশাসন।
তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী পরিকল্পিত ভাবে নিরীহ সাধারণ মানুষকে নিশানা করে এই হামলা চালিয়েছে (Pakistan Airstrike)। তাঁর দাবি, একাধিক এলাকায় বোমা বর্ষণের ফলে বহু মানুষের প্রাণ গেছে।
তবে পাকিস্তান (Pakistan Airstrike) এই অভিযোগ মানতে রাজি নয়। ইসলামাবাদের তরফে জানানো হয়েছে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা। পাকিস্তানের দাবি, আফগানিস্তানের মাটিতে সক্রিয় একাধিক জঙ্গি গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। সেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতেই এই বিমান হামলা করা হয়েছে।
তালিবান প্রশাসন অবশ্য পাকিস্তানের এই দাবি সরাসরি খারিজ করেছে। তাদের বক্তব্য, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং এই ঘটনার জবাব দেওয়া হবে। তালিবান জানিয়েছে, পাকিস্তানের এই হামলার উপযুক্ত প্রত্যাঘাত শিগগিরই করা হবে।
গত মাস থেকেই আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে (Pakistan Airstrike)। সীমান্তে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ছাব্বিশ ফেব্রুয়ারি রাতে আফগান বাহিনী পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে পাল্টা হামলা চালায় বলে জানা যায়। তালিবান প্রশাসনের দাবি, সেই অভিযানে পাকিস্তানের অন্তত বারোটি সামরিক পোস্ট আফগান বাহিনীর দখলে আসে।
সেই সংঘর্ষে পাকিস্তানের পঞ্চান্ন জন সেনার মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল। এরপর থেকেই দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে বহু তালিবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযানে ছয়শো একচল্লিশ জন তালিবান যোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় আটশো পঞ্চান্ন জন আহত হয়েছে। যদিও এই দাবি সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।











