সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে (Pakistan)। রাতভর গোলাবর্ষণ, বিস্ফোরণ এবং বিমান হামলার ঘটনায় কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত সংঘর্ষে অন্তত পঞ্চান্ন জন পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে পাকিস্তান। তাদের বক্তব্য, আফগান সেনাদেরই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে (Pakistan)।
কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের (Pakistan) হামলার জবাব দিতে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার পাল্টা অভিযানের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই অনুযায়ী ডুরান্ড লাইনের একাধিক সীমান্ত এলাকায় তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। শুক্রবার ভোরেও কাবুলে বিস্ফোরণ ও যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তালিবান প্রশাসনের দাবি, সীমান্তের কাছাকাছি একাধিক সামরিক ঘাঁটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তালিবান মুখপাত্র জ়াবিহুল্লাহ মুজাহিদ অভিযোগ করেছেন, পাকিস্তান (Pakistan) কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। তাঁর দাবি, বেশ কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলেও এখনও পর্যন্ত বড় হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে এই সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের হামলায় নারী ও শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, তার জবাব দিতেই এই পাল্টা পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে। ডুরান্ড লাইনের কাছে পাকতিকা, খোস্ত, নানঘরহার ও কুনার এলাকায় তীব্র লড়াই হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তালিবান বাহিনীর দাবি, চার ঘণ্টার সংঘর্ষে দুটি পাকিস্তানি সামরিক ঘাঁটি এবং উনিশটি পোস্ট দখল করা হয়েছে। আরও কয়েকটি পোস্ট ছেড়ে সরে গিয়েছে পাকিস্তানি সেনা। পাশাপাশি একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস এবং বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করার কথাও জানানো হয়েছে। সংঘর্ষে তালিবান বাহিনীর আট যোদ্ধার মৃত্যু এবং একাধিক আহতের খবরও সামনে এসেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তান জানাচ্ছে, তাদের মাত্র দুই সেনার মৃত্যু হয়েছে এবং তিন জন আহত হয়েছেন। উল্টে ছত্রিশ জন আফগান সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। দুই দেশের পরস্পরবিরোধী দাবিতে পরিস্থিতি আরও বিভ্রান্তিকর হয়ে উঠেছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।













