যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে (Middle East Crisis)। বুধবার একাধিক দেশে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত, বাহরিন এবং লেবাননে বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর মিলেছে। এতে যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর থাকবে, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে (Middle East Crisis)।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে লেবাননে (Middle East Crisis)। সেখানে ইজরায়েলের হামলায় অন্তত ৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী বৈরুত-সহ একাধিক এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ছবি সামনে এসেছে। যদিও এই দেশটি যুদ্ধবিরতির আওতায় ছিল না, তবুও পরিস্থিতি দ্রুত খারাপ হয়েছে।
অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কুয়েত ও বাহরিনে ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে (Middle East Crisis)। এই তিন দেশেই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয় এবং বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই ভেঙে ফেলা হয়। তবুও বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাজধানী অঞ্চলে একটি গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র আগুনে পুড়ে যায়। কুয়েতে একাধিক ড্রোন হামলায় তেল শোধনাগার, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জল পরিশোধন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বাহরিনে ড্রোন ভাঙার পর তার অংশ পড়ে দুই ব্যক্তি আহত হন এবং বেশ কিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় (Middle East Crisis)।
এদিকে সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে তেল পরিবহনে বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে (Middle East Crisis)।
ইরানেও একটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার খবর মিলেছে। তবে সেখানে হতাহতের কোনও খবর নেই। একই সময়ে ইজরায়েল লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে অল্প সময়ে বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে তারা যুদ্ধবিরতি থেকে সরে আসতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক মহলের তরফে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা চলছে, তবুও বাস্তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি সাময়িক হতে পারে। কারণ একাধিক জায়গায় এখনও সংঘর্ষ চলছে এবং পরিস্থিতি যে কোনও সময় আরও খারাপ হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।













