যৌন অপরাধে অভিযুক্ত ধনকুবের জেফ্রি এপস্টেইনকে (Jeffrey Epstein) ঘিরে ফের সামনে এল ভয়াবহ অভিযোগ। বহু বছর আগে তাঁর দ্বারা নির্যাতিত এক মহিলা নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে তুলে ধরলেন সেই অন্ধকার জগতের চিত্র। রিনা ওহ নামে ওই নির্যাতিতা জানান, কীভাবে কম বয়সি মেয়েদের মানসিকভাবে ভেঙে ফেলে ধীরে ধীরে ফাঁদে ফেলত এই চক্র (Jeffrey Epstein)।
এক সাক্ষাৎকারে রিনা বলেন, তিনি যখন এপস্টেইনের (Jeffrey Epstein) সংস্পর্শে আসেন তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র একুশ বছর। প্রথমে প্রশংসা ও যত্নের মাধ্যমে বিশ্বাস অর্জন করা হলেও পরে শুরু হয় অপমান, শরীর নিয়ে কটুক্তি এবং মানসিক চাপ। কীভাবে চলতে হবে, কী করতে হবে—সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন এপস্টেইন। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অপমান করে ‘বুড়ি’ বলা হত, যা তাঁর মনে গভীর আঘাত করে এবং তিনি মানসিক অবসাদে ভুগতে শুরু করেন।
রিনা জানান, শৈশবে নির্যাতনের ট্রমা থাকার বিষয়টি এপস্টেইন (Jeffrey Epstein) জানতেন এবং সেই দুর্বলতাকেই কাজে লাগিয়ে তাঁর উপর প্রভাব বিস্তার করতেন। ফ্লোরিডা সফরের সময় আর এক তরুণীর কাছ থেকে এপস্টেইনের গোপন ও ভয়ঙ্কর তথ্য জানতে পারেন তিনি (Jeffrey Epstein)। পরে সেই তথ্য অন্য কাউকে জানানো হয়েছে জানতে পেরে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করেছেন রিনা।
তিনি আরও বলেন, কোনও কারণ ছাড়াই উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বারবার যোগাযোগ করা হত। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে সেই বৃত্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে বিদেশে সমস্যায় পড়ে বাধ্য হয়ে এপস্টেইনের কাছে যেতে হয়। সেখানে তাঁর মতো আরও অনেক তরুণী ছিলেন, যারা পালাতে চাইলেও ভয় ও হুমকির কারণে পারতেন না। নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের মধ্যে তাঁদের রাখা হত এবং সেখানে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির যাতায়াত ছিল বলে অভিযোগ।
এই মামলায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর গ্রেপ্তার হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রিনা। অন্য নির্যাতিতাদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, কেউ একা নন এবং সত্য প্রকাশের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়া জরুরি। তাঁর দাবি, এই অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককেই একদিন আইনের মুখোমুখি হতে হবে।










