আমেরিকা ও ইরানের সংঘাতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হল মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় (Iran War)। এই পরিস্থিতিতে আমেরিকাকে কটাক্ষ করলেন ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সোশাল মাধ্যমে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল সরকার বদলের লক্ষ্য নিয়ে, এখন তা নেমে এসেছে নিখোঁজ পাইলট খোঁজার পর্যায়ে (Iran War)।
তিনি লেখেন, আমেরিকা বারবার জয়ের দাবি করলেও বাস্তবে এখন তাদের পাইলটদের খুঁজে বের করতেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে (Iran War)।
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। আমেরিকার দুইটি যুদ্ধবিমান ইরানের আকাশে ভূপাতিত হয়েছে বলে জানা যায়। একটি বিমানের এক জন সদস্যকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য এক জন এখনও নিখোঁজ। সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার অভিযান শুরু করে মার্কিন বাহিনী (Iran War)।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, একটি বিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর তারা পেয়েছে, তবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ইরানের দাবি, তারা আরও একটি হামলা বিমান পারস্য উপসাগরে নামিয়েছে। যদিও আমেরিকার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সেটি গুলি করে নামানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানের সংবাদমাধ্যম আরও দাবি করেছে, একটি উন্নত মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে এবং একটি উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারও আঘাত পেয়েছে। নিখোঁজ পাইলটের খোঁজ দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে।
এই ঘটনাগুলি ঘটেছে এমন সময়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছুদিন আগেই দাবি করেছিলেন যে আমেরিকা ইরানকে পুরোপুরি দুর্বল করে দিয়েছে এবং খুব দ্রুত যুদ্ধ শেষ হবে। কিন্তু তার কিছুদিনের মধ্যেই এই ঘটনা পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইজরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলির উপর চাপ বজায় রেখেছে তারা। এতে গোটা অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
এই সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়ছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। সেখানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ এবং হামলার কারণে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ পণ্যের দামেও।
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। যুদ্ধের ফল কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। তবে এই ঘটনায় স্পষ্ট, সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে।










