ইরানে চলতে থাকা তীব্র অশান্তির (Iran Protest) মধ্যে সে দেশে থাকা নিজের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল অস্ট্রেলিয়া সরকার। সোমবার অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ দফতর তাদের স্মার্টট্রাভেলার ওয়েবসাইটে একটি জরুরি সতর্কতা জারি করে জানায়, যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে নাগরিকদের। একই সঙ্গে ফের জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানে কোনও ভাবেই ভ্রমণ না করাই শ্রেয় (Iran Protest)।
সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, এখনও বাণিজ্যিক বিমানে ইরান (Iran Protest) ছাড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সুযোগ দ্রুত কমে আসছে। খুব শিগগিরই আকাশপথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, ফ্লাইট বাতিল হতে পারে। তখন দেশ ছাড়া কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে। যারা এই সতর্কতা অমান্য করে ইরানে থেকে যাবেন, তাঁদের নিরাপত্তার দায় সরকার নেবে না বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিদেশ দফতর আরও জানিয়েছে, ইরানের (Iran Protest) নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থির ও বিপজ্জনক। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে হঠাৎ করেই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেই কারণে নাগরিকদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে দীর্ঘ সময় ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেওয়ার জন্য। পর্যাপ্ত জল, খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে এই আন্দোলন শুরু হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামছাড়া দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে। ধীরে ধীরে তা রূপ নেয় ইসলামিক রিপাবলিকের ধর্মীয় শাসকদের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনে। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে।
এই আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা খুব কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। প্রয়োজনে সামরিক হস্তক্ষেপও হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আগেও ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, বিক্ষোভকারীদের উপর গুলি চালানো হলে আমেরিকা চুপ থাকবে না।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জানিয়েছে, তাদের উপর কোনও হামলা হলে তারা আমেরিকার ঘাঁটি এবং ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে সামরিক আঘাত হানবে। ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানে আক্রমণ হলে ইজরায়েল এবং মার্কিন স্বার্থ তাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।
অশান্তি দমাতে বৃহস্পতিবার থেকে গোটা ইরানে ইন্টারনেট পরিষেবা কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তেহরানের অভিযোগ, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মদতেই এই আন্দোলন চলছে। যদিও সরকারিভাবে এখনও মৃত্যুর কোনও সংখ্যা জানানো হয়নি। তবে আমেরিকাভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন HRANA জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত অন্তত ৪৯০ জন বিক্ষোভকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারের বেশি মানুষ।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা যুদ্ধের জন্য যেমন প্রস্তুত, তেমনই আলোচনার পথও খোলা রয়েছে। একই দিনে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, দেশের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বাইরের হস্তক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি করতেই কিছু সন্ত্রাসী হামলা চালাচ্ছে, যাতে আন্তর্জাতিক শক্তি ইরানে হস্তক্ষেপ করে।













