ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা Ali Khamenei নিহত হওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠল পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের (Iran) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন করে এক দফা হামলা চালিয়েছে তেহরান।
খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের (Iran) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসি কড়া হুঁশিয়ারি দেয়। তাদের বক্তব্য, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণ চালানো হবে। রবিবার সেই হুঁশিয়ারির বাস্তব রূপ দেখা গেল বলে দাবি করা হচ্ছে।
রবিবার ইসরায়েলের নেগেভ ও মৃত সাগর অঞ্চলে লাল সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। আকাশপথে হামলার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়। তেল আবিবজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে ছোড়া ইরানি (Iran)ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে বাধা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর।
আইআরজিসি দাবি করেছে, পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। বাহিনীর বক্তব্য, এই সব ঘাঁটিতে সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক হিসাব এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় একাধিক বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বাসিন্দারা জোরালো শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। বাহরাইন ও প্রতিবেশী কুয়েতে বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠে। গালফ অঞ্চলে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে (Iran)।
এই উত্তেজনার মধ্যে রাষ্ট্রসংঘ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরাস বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের উপর ব্যাপক সামরিক হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা আক্রমণ আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বিরোধের একমাত্র সমাধান শান্তিপূর্ণ পথেই সম্ভব।
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছিল। তেহরান এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলি বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে এবং গোটা বিশ্বের নজর এখন পশ্চিম এশিয়ার দিকে। যুদ্ধ কি আরও বড় আকার নেবে, নাকি শেষ মুহূর্তে কূটনৈতিক সমাধান মিলবে—এই প্রশ্নেই কাঁপছে আন্তর্জাতিক মহল।













