পশ্চিম এশিয়ায় চলতে থাকা যুদ্ধের উত্তাপ এবার আমেরিকার ভূখণ্ডেও ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে ড্রোন হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (Middle East Crisis)।
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে (Middle East Crisis)। একের পর এক হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। তার জবাবে পালটা পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরানও। এই পরিস্থিতিতে প্রতিশোধ নিতে তেহরান মার্কিন ভূখণ্ডে হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে (Middle East Crisis)।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই এই বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। সেই সময় আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেনি। তবুও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার আশঙ্কা ছিল, হঠাৎ করেই মার্কিন ভূখণ্ডে হামলার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে (Middle East Crisis)।
তবে তদন্তকারী সংস্থার আশঙ্কার একটি বড় কারণ হল, সম্ভাব্য হামলার বিস্তারিত তথ্য তাদের কাছে নেই। তাই আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠছে। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের লাগাতার হামলার পরেও পিছু হটার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি ইরান। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে তারা পালটা আঘাত করছে (Middle East Crisis)।
ইরাকের একটি বাণিজ্য বন্দরে তেলবাহী জাহাজে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও কুয়েত, কাতার, আরব আমিরশাহী এবং সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের দেশেও ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছিল। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সেই হামলা প্রতিরোধ করা হয়েছে।
এই সংঘাতের মাঝেই শান্তির জন্য তিনটি শর্তও সামনে এনেছে ইরান। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, প্রথমত ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে স্বীকার করতে হবে। দ্বিতীয়ত যুদ্ধের ফলে যে ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তৃতীয়ত ভবিষ্যতে আর কোনও আগ্রাসন হবে না— এমন নিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক স্তরে দিতে হবে।
এদিকে নতুন করে জানা যাচ্ছে, ইরাকের একটি বন্দরের কাছে আমেরিকার একটি সংস্থার দুই তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। সেই ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। হরমুজ প্রণালীতে ভাসমান একাধিক জাহাজেও হামলার অভিযোগ উঠেছে।
সৌদি আরব দাবি করেছে, ইরানের হামলায় তাদের একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক এই হামলার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীকে কার্যত অবরুদ্ধ করার কৌশল নিয়েছে ইরান। এতে তেল সরবরাহে বড় প্রভাব পড়তে পারে এবং যুদ্ধ থামানোর জন্য আমেরিকা ও ইজরায়েলের উপর চাপ বাড়তে পারে।











